সারাদিনের ক্লান্তি শেষে ঘুম মানুষের একমাত্র বিনোদন। যা মানুষের ক্লান্তি, পরিশ্রম দূর করে মনে প্রশান্তি নিয়ে আসে।
কিন্তু অনেকেই আছেন যারা রাতে ঠিকঠাক ঘুমাতে পারেন না। সারারাত বিছানার এপাশ থেকে ওপাশে ফেরেন, কিন্তু চোখে ঘুম থাকে না। এ সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ইনসোমনিয়া বলা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, মূলত ভিটামিন ও খনিজের অভাবে মানুষ এ সমস্যায় ভোগেন।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘টিএমজে এন্ড স্লিপ সলিউশন’ তাদের এক গবেষণা প্রতিবেদনে ভিটামিনের ঘাটতির ফলে ঘুম না হওয়ার ৫ টি কারণ তুলে ধরেছে।
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি
সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চিকিৎসকরা সাধারণত প্রথমেই ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট বা পরিপূরক গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এটি এমন এক ধরনের ঘাটতি যা সচরাচর সবচেয়ে বেশি শনাক্ত করা হয়। খাবার বা সূর্যের আলো থেকে যদি আপনি পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি না পান, তবে সারাদিন ক্লান্ত বোধ করা সত্ত্বেও রাতে ভালো ঘুম না হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গবেষকরা বলছেন, শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা কম থাকলে অনিদ্রা এবং ঘুমের অন্যান্য ব্যাঘাত ঘটতে পারে; এমনকি এই ঘাটতির কারণে রাতে চার ঘণ্টার কম সময় ঘুমানোর ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। সাপ্লিমেন্ট ছাড়াও, তাজা মাছ এবং ভিটামিন-সমৃদ্ধ (ফর্টিফাইড) খাবার খাওয়ার মাধ্যমে আপনি ভিটামিন ডি-এর গ্রহণ বাড়াতে পারেন।
ওমেগা-৩-এর ঘাটতি
মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সাথে জড়িত হরমোনগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে এই ফ্যাটি অ্যাসিডটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রমাণিত হয়েছে। যারা ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে রাতে গড়ে আরও এক ঘণ্টা বেশি ঘুমের বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে-যা সকালে আপনার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সেলেনিয়ামের ঘাটতি
ভিটামিন ও ফ্যাটি অ্যাসিডের পাশাপাশি ঘুমের চক্র বা ‘স্লিপ সাইকেল’ ঠিক রাখার ক্ষেত্রে খনিজ উপাদান বা মিনারেলস-এর ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা ভেগান বা নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন, তাদের মধ্যে এই উপাদানের ঘাটতি দেখা দেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে, কারণ তাদের খাবারে সাধারণত সেলেনিয়ামের অভাব হতে পারে।
ঝিনুক, চিংড়ি এবং টুনা মাছের মতো সামুদ্রিক খাবার খাওয়ার মাধ্যমে সেলেনিয়াম গ্রহণের মাত্রা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে নিরামিষভোজীরা ব্রাজিল নাটস এবং ক্রিমিনি মাশরুম থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সেলেনিয়াম পেতে পারেন।
ভিটামিন সি-এর ঘাটতি
ভিটামিন সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাস্থ্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবে শরীরে এর আরও অনেক ভূমিকা রয়েছে; তাই শরীরে ভিটামিন সি-এর মাত্রা কমে গেলে তা এমনভাবে স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়-এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ভিটামিন সি-এর চরম ঘাটতির ফলে ‘স্কার্ভি’ নামক একটি গুরুতর ও দুর্বলতা সৃষ্টিকারী রোগ হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের মাধ্যমে ঘুমের সমস্যা কমানো সম্ভব। তবে ভিটামিন সি-এর সেরা প্রাকৃতিক উৎস হলো লেবুজাতীয় ফল, টমেটো এবং ব্রকলি।
ভিটামিন বি৬-এর ঘাটতি
ভিটামিন বি৬ আমাদের স্বপ্নের ওপর প্রভাব ফেলে, যার ফলে এটি আমাদের সচেতন সত্তার পাশাপাশি অবচেতন মনকেও প্রভাবিত করে। বি৬-এর অভাবে আপনার স্বপ্ন মনে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। আরও আকর্ষণীয় বিষয় হলো, যারা নিয়মিত সঠিক মাত্রায় বি৬ গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে ‘লুসিড ড্রিম’ বা সচেতন স্বপ্নের অভিজ্ঞতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ঘুমের ক্ষেত্রে বি৬-এর প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বি৬ মেলাটোনিন ও সেরোটোনিন হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা ঘুম ও মেজাজের ওপর প্রমাণিত প্রভাব ফেলে।