ঘন ঘন চোখ পিটপিট করছে বা চোখের পাতা কাঁপছে? অনেকেই বিষয়টিকে সামান্য বলে উড়িয়ে দেন, কেউ আবার ডান চোখ না বাঁ চোখ কাঁপলো, তা নিয়ে শুভ-অশুভের হিসাব কষতে থাকেন। কিন্তু সত্যিই কি ভয়ের কিছু আছে? চিকিৎসকরা বলছেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি সাময়িক এবং বিপজ্জনক নয়, তবে কখনো কখনো এটি বড় কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় চোখের পাতার এমন অনিচ্ছাকৃত কাঁপুনিকে বলা হয় মায়োকাইমিয়া (Myokymia)। চোখের পাতার ছোট পেশিগুলো অনিচ্ছাকৃতভাবে সংকুচিত হলেই এই কাঁপুনি অনুভূত হয়। কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের জন্য এটি হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে দেখা দিতে পারে।
চোখ পিটপিট করার কারণ
- দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, টিভি দেখার কারণে চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
- যাদের বয়স বেশি বা যারা লেন্স ব্যবহার করেন, তাদের চোখে শুষ্কতা হতে পারে।
- দুশ্চিন্তা করলে চোখে কম্পন দেখা দেয়।
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে স্নায়ু দুর্বল হয় এবং চোখ পিটপিট করতে পারে।
- অতিরিক্ত চা, কফি বা অ্যালকোহল গ্রহণ করলে স্নায়ুর উত্তেজনা বাড়ে।
- ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতির কারণে এই সমস্যা হতে পারে।
যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হওয়া জরুরি
- অনেক দিন ধরে চোখ পিটপিট বা লাফাতে থাকলে
- পুরো চোখের পাতা বা মুখের একপাশ কেঁপে ওঠা
- চোখ লাল হওয়া, ফুলে যাওয়া বা ব্যথা অনুভব করা
- দৃষ্টিশক্তি কমে আসা
এসব ক্ষেত্রে এটি ব্লিফেরোস্প্যাজম, হেমিফেশিয়াল স্প্যাজম বা অন্য কোনো স্নায়বিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। তখন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
করণীয়
- প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।
- দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে প্রতি ২০ মিনিটে একবার ২০ ফুট দূরের কিছু দেখুন, ২০ সেকেন্ডের জন্য (২০-২০-২০ নিয়ম)।
- প্রয়োজনে আইড্রপ ব্যবহার করতে পারেন (চিকিৎসকের পরামর্শে)।
- রিলাক্সেশন বা মেডিটেশন চেষ্টা করতে পারেন।
- ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার (বাদাম, কলা, পালংশাক) বেশি খান।
- চা-কফি কম খাওয়ার চেষ্টা করুন।
- চোখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন।
চোখ পিটপিট করা বা লাফানো সাধারণত গুরুতর কিছু নয়। সঠিক উপায়ে যত্ন নিলে ঠিক হয়ে যায়। তবে যদি সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা অন্য উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে একজন চক্ষুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।



