মালিবাগ-খিলগাঁওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-ড্রেন দ্রুত মেরামতের নির্দেশ

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের চলমান নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ এবং জনদুর্ভোগ কমাতে তাৎক্ষণিক করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে মালিবাগ রেলগেট থেকে খিলগাঁও-বাসাবো এলাকা পর্যন্ত নির্মাণাধীন অংশ পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

পরিদর্শনকালে সেতু সচিব নির্মাণকাজের অগ্রগতির পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার সড়ক, ড্রেনেজ, জননিরাপত্তা ও নির্মাণ-পরবর্তী নাগরিক সুবিধার বিষয়গুলোকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চলমান কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্মাণকাজের কারণে সৃষ্ট সাময়িক অসুবিধা দ্রুত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।

সেতু সচিবের সঙ্গে পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী, পরিচালক (প্রশাসন), ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, সেতু কর্তৃপক্ষের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেড (FDEE)-এর প্রতিনিধিবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে মালিবাগ হতে খিলগাঁও অংশে ক্ষতিগ্রস্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা দ্রুত মেরামতের বিষয়ে এক্সপ্রেসওয়ের রুট অ্যালাইনমেন্টের মধ্যে বিদ্যমান ইউটিলিটি অপসারণ ও প্রতিস্থাপন কাজে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড (২৪ ইসিবি)-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

একইসঙ্গে এক্সপ্রেসওয়ের অ্যালাইনমেন্টসংলগ্ন মূল সড়কের যেসব স্থানে গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে, সেসব স্থান দ্রুত মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দেন তিনি।

জনদুর্ভোগ কমানো এবং নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেতু সচিব বলেন, “বড় অবকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সড়ক, ড্রেনেজ ও অন্যান্য নাগরিক অবকাঠামোর কার্যকারিতা বজায় রাখাও প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।”

পরিদর্শনকালে প্রকল্পের নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব ও কাঠামোগত বিষয়াবলীও পর্যালোচনা করা হয়। মূল উড়াল সড়কের গার্ডারসমূহের নিচে স্থাপিত বিয়ারিং প্যাড-এর অবস্থা নিয়মিত ও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া মালিবাগ রেলগেট মোড় এলাকায় ট্রপিক্যাল হোমস কর্তৃক নির্মাণাধীন টিএ টাওয়ার-এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ড্রেনসমূহ দ্রুত পুনর্নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন সেতু সচিব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সেতু সচিব জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, “মেগাপ্রকল্পের মূল নির্মাণকাজের পাশাপাশি আশপাশের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নিচের সড়কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হলে নির্মাণকাজের সঙ্গে জনস্বার্থ ও নাগরিক সুবিধার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।”

সেতু সচিব আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের যোগাযোগ খাতে এক অভাবনীয় রূপান্তর ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও অদম্য সদিচ্ছার কারণেই আজ মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের মুখ দেখছে। একই সাথে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্ব এবং ধারাবাহিক দিকনির্দেশনায় দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো বিশ্বমানে উন্নীত হচ্ছে।”

তিনি জানান, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, যানজট নিরসন এবং দ্রুততর যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে কাজ করবে। প্রকল্পের নির্মাণকাজ নির্ধারিত মান ও সময়সীমা অনুসরণ করে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণকালীন জনদুর্ভোগ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সরকারের চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবকাঠামোর গুণগত মান, নিরাপত্তা, সময়ানুবর্তিতা এবং জনগণের স্বাচ্ছন্দ্য - এই বিষয়গুলোকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার ওপর সেতু সচিব গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তা, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাসমূহকে নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা এবং যেসব সমস্যা সরাসরি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের নির্দেশনা দেওয়া হয়।