সম্প্রতি ৪১ তম বিসিএস এর ফলাফল প্রকাশের পর থেকে দেশের একটা বহুল পঠিত পত্রিকার ৩-৪ দিনের শিরোনামগুলো গুছিয়ে রেখেছিলাম, বিসিএস নিয়ে গণমাধ্যমের মাতামাতি এবং এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে লেখার জন্য। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে দু-এজনের লেখা পড়ে মনে হয়েছে, তারা আমার চেয়ে ভালো লিখেছেন। তাছাড়া পত্রিকাগুলোর কথিত বিসিএস জয়ীদের বীরত্বের আখ্যানও চলমান ছিল। তাই একটু সময় নিচ্ছিলাম।
আখ্যান শেষে গণমাধ্যমের কর্তাব্যক্তিরা আবার কলম ধরেছেন বিসিএস নিয়ে এত মাতামাতি কি ঠিক হচ্ছে? গণমাধ্যম বলে কথা! সবদিকে সামঞ্জস্য রক্ষা করে চলতে হয়। কিন্তু যে কর্তাব্যক্তিরা আজ এই শিরোনামে লিখছেন, তারা কি তাদেরই পতিকাতে শিরোনামগুলোতে চোখ না বুলিয়েই অনুমোদন করেছেন? ভেতরের বক্তব্য দেখবার ফুসরত হয়ত তাদের নেই। কিন্তু শিরোনামগুলোর মধ্যেই যে যথেষ্ট সংবেদনশীলতার অভাব রয়েছে, যুক্তিশীলতার অভাব রয়েছে সেগুলো কমপক্ষে তারা আমলে নিতে পারতেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও যারা লিখেছেন, তারাও হয়ত তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টাকে উপস্থাপন করেছেন। আমি একটু গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং কথিত বিসিএস জয়ীদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলাপটা এগিয়ে নিতে চাই।
মূল আলাপে যাবার আগে কয়েকটা শিরোনাম উল্লেখ করে পাঠক এবং আমার নিজের জন্যও সুবিধা হবে বলে মনে করি।
পত্রিকাটির ৫ আগস্টের একটি শিরোনাম, “একসঙ্গে দুই বোনের বিসিএস জয়”।একই তারিখের আরেকটি শিরোনাম “তিনবারের চেষ্টায় বিসিএস, প্রশাসনে প্রথম নাঈমুর বিস্মিত”।
৬ আগস্টের একটি শিরোনাম “৬ বার বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে অবশেষে শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম রাশেদুল”। ৮ আগস্টের একটি শিরোনাম “রাজমিস্ত্রির যোগালি থেকে বিসিএস ক্যাডার”, একইদিনে আরেকটি শিরোনাম “ফল দেখে চিৎকার করে মায়ের পা ধরে বসেছিলাম”।
৯ তারিখের একটা শিরোনাম , “প্রথম বিসিএসেই ক্যাডার অনিন্দ্য: যোগ্যতা থাকলে বিসিএসে পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাপার না”। একই তারিখের আরেকটা শিরোনাম “ বিসিএস ক্যাডার হয়ে প্রতিবেশীদের কটু কথার জবাব দুই বোনের”।
আগেই বলেছি এগুলো হলো, একটা পত্রিকার চার দিনের কয়েকটা শিরোনাম। প্রত্যেকটি শিরোনাম এবং তার ভেতরের বক্তব্য নিয়ে আলাদাভাবে কথা বলতে গেলে সে এক দীর্ঘতর আলোচনা কিংবা সমালোচনা হয়ে যাবে।
আরেকটা বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করে নিতে চাই, যারা প্রাণান্তকর চেষ্টায় বিসিএসে সফল হয়েছেন, এই আলোচনা কিন্তু তাদের নিয়ে নয়। তবে আলোচনা এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় তারাও এখানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পাত্র-পাত্রী তো বটেই।
যদি প্রথম শিরোনামটি নিয়ে একটু আলাপে যেতে চাই, তাহলে বলতে হবে; জয়-পরাজয়ের প্রসঙ্গ আসে, লড়াই শেষে। সেই লড়াইয়ের লড়াইয়ের একটা মহৎ উদ্দেশ্য থাকে। মহৎ উদ্দেশ্য ছাড়া লড়াইকে আমরা বড়জোর যুদ্ধ বলতে পারি, এবং যুদ্ধে লিপ্ত পক্ষকে আমরা যুদ্ধবাজ বলতে পারি কিন্তু লড়াকু বলতে পারি কি? এখন এই যে দুই বোনের বিসিএস জয়ের উদ্দেশ্য কী, তাদের প্রতিপক্ষ কারা এগুলো একটু তলিয়ে দেখলেই আমরা বুঝব এই শিরোনাম শুধু আমাদের গণমাধ্যমের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় নয়; বরং লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসকে, মহত্বকে, পরিসরকে সীমিত ফেলার দায়ও তাদের ওপর বর্তায়।
বিসিএস পরীক্ষার্থীদের প্রায় প্রত্যেকের উদ্দেশ্যই যেখানে নিজের কথিত সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং জীবনের শেষে গিয়ে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেখানে এটাকে লড়াইয়ের মর্যাদায় উপনীত করা কতটুকু সমিচীন? আর কথিত লড়াইটা তারা করছে কার সঙ্গে? তাদেরই মতো একই উদ্দেশ্যে যার বা যাদের জীবনের ব্রত, তাদেরই সঙ্গে তুলনা করে এই সফলতাকে বলা যেতে পারে জাত ভাইকে/বোনকে পেছনে ফেলে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করা।
এটাকে আর যাই বলি, লড়াইয়ের মর্যাদা দিতে আমি ব্যক্তিগতভাবে নারাজ। কাজেই যেখানে সত্যিকার মহৎ কোনো উদ্দেশ্য নেই, সেখানে জয়-পরাজয়ের প্রশ্ন অবান্তর।
৬ আগস্টের শিরোনামটা নিয়ে আলাপে না গিয়ে বরং একটা গল্প বলি। আমার এক সহকর্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে পড়াশনা করে এখন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। কিন্তু সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাসের প্রতি তার আগ্রহ থেকে সংশ্লিস্ট বিষয়ের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন বাসায় রাখা তার অভ্যাসের মতো হয়ে গেছে। একদিন তার ক্লাসমেট যিনি এখন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে চাকরি করেন, তিনি তার বাসায় এলেন। এসে তিনি বন্ধুকে বলেন, “আমি পড়াই ফিলোসফি আর তুই বাসায় রাখোস এইসব। তোর এইগুলা দিয়া কাম কি? আমি তো এইগুলার ধারে কাছেও নাই।” এই কথা শেয়ার করলাম, কারণ ছয়বার বিসিএস এর কথিত লড়াই শেষে এটাই তাদের অনেকের কাছে পরমপ্রাপ্তি মনে হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা আর পড়ালেখার দরকার আছে বলে মনে করেন না; এমন কথা বললে নিশ্চয়ই অমুলক হবে না। বরং যারা নিজের তাগিদে পড়াশুনা করেন, করতে চান, তাদেরকেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন অনেক ক্ষেত্রে।
আমি আমার শিক্ষা জীবনে দেখেছি, অধিকাংশ শিক্ষকই ক্লাসে বেশি প্রশ্ন করা পছন্দ করতেন না। বরং প্রশ্নকারীকে এই বসো, বেশি পন্ডিত নানা অভিধায় অভিহিত হতে দেখেছি। ব্যতিক্রম যে নেই, তা বলব না। কিন্তু ব্যতিক্রম তো উদহারণ হতে পারে না।
আবার পত্রিকার শিরোনম প্রসঙ্গে আসি। পত্রিকাটির ৮ আগস্টের শিরোনাম হলো, “রাজমিস্ত্রির যোগালি থেকে বিসিএস ক্যাডার”। এই শিরোনামের মধ্যেই কিন্তু পেশার প্রতি অবজ্ঞা আছে। এটা শুধু গণমাধ্যমের দোষ না; এ দায়, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, সমাজ এবং রাষ্ট্রের। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিই গড়ে উঠেছে ওভাবে। জাপানের স্কুল বা কিন্ডারগার্টেনগুলোতে শিশুদের কোনো কিছু খাওয়ার আগে “ইতাদাকিমাস” বলতে শেখানো হয়। “ইতাদাকিমাস” জাপানি ভাষার একটা শব্দ। শব্দটার অর্থ হলো, আপনি যে খাবারটা খাচ্ছেন, সেটার বীজ রোপণ - চাষাবাদ করা থেকে শুরু করে সমস্ত প্রস্তুতি এবং পরিবেশন পর্বসহ আপনার সামনে আহার হয়ে আসা পর্যন্ত যারা এটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা। সোজাকথা হলো, যাদের শ্রম-ঘামের ফসলে আমরা প্রতিদিন খেয়ে-পরে বেঁচে আছি, তাদের কাছে আসলে আমাদের অনেক ঋণ। তাদের প্রতি সেই ঋণ স্বীকার করা। তাদের প্রতি যে মানুষ হিসেবে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব - কর্তব্য আছে সেটা স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
কিন্তু আমাদের শিশুদের একাংশের দৃষ্টিভঙ্গি যেভাবে গড়ে উঠছে, সেখানে রাজমিস্ত্রির যোগালি এবং বিসিএস ক্যাডার দুজনই যে মানুষ সেটাই হয়ত আমাদের পরের প্রজন্ম ভুলে যাবে। কারণ, যে ভবনে বসে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক এই শিরোনাম করেছেন এবং সম্পাদক মহোদয় সেটা অনুমোদন করেছেন, তাদের মাথায় হয়ত এটা ছিল না যে, ওই ভবনের প্রতিটা ইটে রাজমিস্ত্রির যোগালির হাতের স্পর্শ রয়েছে। থাকলে হয়ত তারা ভেবে দেখতেন, এই শিরোনামের মাধ্যমে কোনো পেশাকে, বৃত্তিকে তারা অপমান খাটো করছেন কি-না। রাজমিস্ত্রির যোগালি থেকে বিসিএস ক্যাডার হওয়া ছেলে কিংবা মেয়েকে নিয়ে প্রতিবেদন হতে পারে, কিন্তু তার শিরোনাম, ভেতরের বক্তব্য নিয়ে ভাবনার অবকাশ রয়েছে। এই দায়িত্ব গণমাধ্যমকেই পালন করতে হবে।
গণমাধ্যমকে বলা হয় সমাজের দর্পণ। দর্পণ স্বচ্ছ না হলে তার প্রতিফলন কী হয় সেটা আমাদের সবারই জানা।
আরেকটা শিরোনাম হলো, “যোগ্যতা থাকলে পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ব্যাপার না”। একটু উষ্মা প্রকাশ করে বলি, যোগ্যতা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রয়োজন নাই। এইটা কোনো কথা হতে পারে না। এইভাবে ভাগ করলে, বলতে হবে যোগ্যতা থাকলে, ক্লাসে ফার্স্ট হওয়া, আর লাস্ট হওয়া কোনো ব্যাপার না। শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলতে পারা, না প্রা কোনো ব্যাপার না। ছাত্রজীবনে কোনো স্বেচ্ছসেবী কিংবা সামাজিক কাজের সাথে যুক্ত থাকা না থাকা কোনো ব্যাপার না। এরকম হাজারো ভাগে ভাগ করা যাবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই যোগ্যতার মাপকাঠি কি শুধুই বিসিএস?
যে শিরোনামটা দিয়ে আলাপ শেষ করতে চাই, সেটা হলো- “বিসিএস ক্যাডার হয়ে প্রতিবেশীদের কটু-কথার জবাব দুই বোনের”। মেয়ে হওয়ার কারণে, প্রতিবেশীরা মা-বাবাকে কটু কথা শুনিয়েছিলেন, অবজ্ঞা করেছিলেন, সেই মেয়েরাই বিসিএস ক্যাডার হয়ে জবাব দিলেন। এখন কথা হল, কথিত মধ্যম আয়ের দেশ, স্মার্ট বাংলাদেশে এখনও মেয়েদের কেন অবহেলার চোখে দেখা হয়? লাখ, লাখ মেয়ে প্রতিদিন এরকম কথা শুনতে বাধ্য হচ্ছেন, তারা সবাই কি বিসিএস ক্যাডার হতে পারবেন চাইলেও! তারা তাদের মতো করে জবাব দিচ্ছেন, কেউ বাবার মাঠের কাজে সহায়তা করে, কেউ মুদি দোকানী করে, কেউ বাবার ব্যবসার কাজে সহযোগিতা করে।
আমি একবার একটা পেশাগত কাজে মেহেরপুরে গিয়ে দেখি সারা মাঠজুড়ে কেবল তামাকের চাষ। তার মধ্যে অল্পকিছু জায়গাতে একজন নারী সবজি চাষ করেছেন। আমি তাকে বললাম, তামাক চাষে তো লাভ বেশি, আপনি একাই কেন সবজি চাষ করেছেন? উত্তর ছিল এরকম, “লাভ বেশি, কিন্তু পরিবেশের ১২টা বাজে। সবাই লাভের চিন্তা করলি হবে? আমি ভাই, নিজির ক্ষেতের শাক সবজি পরিবারের সদস্যদের সাথে বসে খাই, সেইটেই আমার বড় লাভ। কিছু বিক্রি বাট্রাও করি।” আমি যে নারীর কথা বলছি, তিনি তখনও বিয়ে করেননি এবং শত শত পুরুষের মাঝে তিনিই একমাত্র নারী কৃষক যিনি সরাসরি মাঠে চাষের কাজ করেন। বহুজাতিক কোম্পানির অগ্রিম টাকার কাছে যেখানে পুরুষ কৃষকেরা নত কিংবা তামাক চাষে বাধ্য সেখানে এই নারীই তো আমাদের নির্লোভতার সাহসিকতার বাতিঘর। তার পরিবারের সাথেও আমি কথা বলেছি। তার পরিবার কিন্তু তার ওপর দারুণ খুশি। এলাকার মানুষের মনোভাব বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি। কিন্তু তাদের আপত্তি থাকলেও তিনি তা থোরাই কেয়ার করেছেন। এটা কি জবাব না? এরকম হাজারো নারী আমাদের গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। এরাই সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনে পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করছেন।
সবশেষে বলি, দেশে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও নির্মাণ শ্রমিকেরা কর্মরত অবস্থায় প্রাণ হারাচ্ছেন, সব খবর পত্রিকায় আসে না। শিরোনামের অভ্যন্তরে বিস্তারিত বিবরণে একজন সরকারি কথিত কর্মকর্তা হিসেবে নির্মাণ শ্রমিকদের সুরক্ষায় আপনি কী অবদান রাখতে চান কিংবা লাখো নারী প্রতিদিন প্রতিবেশীদের, সমাজের যে কটু কথার বাক্যবাণে জর্জরিত হন, এই ব্যবস্থা পরিবর্তনে আপনারা কি ভূমিকা পালন করবেন জিজ্ঞাসা করার মতো ন্যূনতম মেধাও কি আমাদের গণমাধ্যমকর্মীদের নেই?
একই সঙ্গে এটাও বলি, এই প্রশ্নের উত্তর পড়েও আমরা কথিত সবচেয়ে যোগ্যদের যোগ্যতা পরিমাপের সুযোগ পেতাম। সম্প্রতি আমি একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বললেন, “উপজেলাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী হিসেবে স্বীকৃতির জন্য যে কার্ড প্রদান করা হয়, সেটার জন্য উপজেলাতে একটা কমিটি আছে, আমি সেই কমিটির প্রধান। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিবন্ধী কার্ড দিতে চাই না।” জানতে চাইলাম কেন? তিনি বললেন, “আমরা স্মার্ট বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করেছি, প্রতিবন্ধী হিসেবে স্বীকৃত হয়ে গেলে সে তো আর স্মার্ট হতে পারল না।”
যে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কথা বললাম, তিনি বয়সে একটু প্রবীণ। এবার একজন নবীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কথা বলে শেষ করি, যার কার্যালয়ে বসে দেখলাম তিনি পরম মমতায় একজনকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি দেওয়ার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্দেশনা প্রদান করছেন তারই অফিসের একজন স্টাফের সুপারিশে। কারণ হলো, বাড়ির দাবিদার নব-মসুলিম। এই হলো আমাদের কথিত যোগ্যদের বিবেচনা বোধ।
যে দু’জন বিসিএস কর্মকর্তার কথা বললাম, তারা দু’জনই একই জেলার পাশাপাশি দু’টি উপজেলায় কর্মরত। সারা বাংলাদেশে এদের মতো কর্মকর্তার সংখ্যাই বেশি। যারা ধারণা পোষণ করেন, স্মার্ট বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির স্বীকৃতি দেশকে পিছিয়ে দেয়। যারা ধারণা পোষণ করেন, দেশে ঘরহীন মানুষের ঘর নিশ্চিত হওয়ার আগে একজন নব-মুসলিমের ঘর পাওয়াটা জরুরি।
এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জন্য গণমাধ্যম তাদের দায় এড়াতে পারে না। কারণ, তারাই এদেরকে সবচেয়ে যোগ্য এবং সমাজের আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে চলেছেন ধারাবাহিকভাবে। দয়া করে এবার আপনারা থামুন। প্রজাতন্ত্রের কর্মাচারীদের মাথায় তুলে না নেচে, বিসিএসকে সমাজের আদর্শ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত না করে কোটি তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান, শোভন কর্মপরিবেশের দাবি নিয়ে কথা বলুন, তবেই গণমাধ্যম অভিধা স্বার্থকতা লাভ করবে।
মানবাধিকার কর্মী অপূর্ব দাসের জন্ম ও বেড়ে ওঠা যশোরে। লেখাপড়া করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। মানবাধিকার, নারী অধিকার, জেন্ডার এবং নারীর ভূমি অধিকার নিয়ে তিনি কাজ করেছেন একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনে। এছাড়াও যুক্ত আছেন লেখালেখি এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও।
প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত। ঢাকা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ এর জন্য দায়ী নয়।