আয়কর রিটার্নের সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে ৪০ লাখ

নতুন আয়কর আইন প্রণয়নসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরেও কাঙ্ক্ষিতভাবে আয়কর রিটার্ন জমার পরিমাণ বাড়ছে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড(এনবিআর) সূত্র বলছে, ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিন) হয়েছে প্রায় ১ কোটি। কিন্তু আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে মাত্র ৩৫ লাখ ৪০ হাজার ৪০৬টি।

গত অর্থবছরে আয়কর সেবা মাস শেষে আয়কর রিটার্ন জমার পরিমাণ ছিল ৩০ লাখ ২৮ হাজার। তবে ২০২৩-২৪ অর্থাং চলতি অর্থবছরে জমার সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ৫ লাখ। সেবা মাস শেষে  কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন জমা হয়নি। 

২০২৩ সালের ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয় আয়কর সেবা মাস, যা এ বছরের ৩১ জানুয়ারি শেষ হয়। এ অর্থবছরের সেবা মাসে এনবিআর থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সেবা মাসে ছিল ৪ হাজার ৮৯৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

৩০ এপ্রিল ঢাকার একটি হোটেলে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত ‘‘বাংলাদেশের ডমেস্টিক রিসোর্স মবিলাইজেশন-ইমপারেটিভ অ্যান্ড এ রোডম্যাপ’’ শীর্ষক সেমিনারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনীম বলেছেন, এ অর্থবছরে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আয়কর রিটার্নের সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
 
তিনি বলেন, ‘‘২০২০ সালে টিনধারীর সংখ্যা ৬০ লাখ ছিল যা এখন বেড়ে ১.২ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। ২০২০ সালে জমা দেওয়া রিটার্নের সংখ্যা ছিল ২১ লাখ যা ৩৯ লক্ষে পৌঁছেছে। আমরা আশা করি এই বছরের শেষে রিটার্নের সংখ্যা অতিক্রম করবে ৪০ লাখ।”

তিনি আরও জানান, দেশে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বরধারীর (বিন) সংখ্যা এখন ৫ লাখে পৌঁছেছে, যা ২০২০ সালে ছিল ২ লাখ।

এনবিআর চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, কর প্রদানের ব্যবস্থা সহজীকরণের ফলে টিন, বিন ও রিটার্নের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। ‘‘এটি আয়কর, ভ্যাট এবং কাস্টমসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এখন ঘরে বসে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া সম্ভব। এখন আগের মতো ট্যাক্স সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য ট্যাক্স অফিসে যেতে হবে না। করদাতারা তাদের রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ট্যাক্স সার্টিফিকেট পাচ্ছেন না।”

তবে দেশে ট্যাক্স টু জিডিপি অনুপাত এখনও কম বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে কর ও জিডিপি অনুপাত কম এবং আমি এতে হতাশ। যদি মালদ্বীপ এবং নেপালের প্রেক্ষাপট দেখা হয়, তাহলে দেখা যাবে, তাদের রাজস্বের একটি বড় অংশ আসে পর্যটন খাত থেকে কিন্তু আমাদের দেশে এই ধরনের আয়ের উৎস সীমিত।”

এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘‘শুধু ব্যক্তি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান নয়, অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানও কর দিতে চায় না। উভয় প্রতিষ্ঠানই কর না দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পন্থা খোঁজে।”

সরকারের ব্যাপক ঋণ গ্রহণের প্রবণতা নেতিবাচক নয় বরং ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘এ ধরনের প্রবণতা অর্থনীতিকে গতিশীল করবে এবং পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।”

তিনি বলেন, ‘‘এনবিআর সবসময় শিল্প ও ব্যবসার বিকাশে নীতিগত সহায়তা দিতে নিযুক্ত। দেশে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বেশি থাকলে অর্থনীতির পরিসর বাড়ে। কিন্তু স্থানীয় শিল্প পরিসরে তাদের শুল্কছাড় দিতে হবে। ফলে প্রতিষ্ঠান থেকে রাজস্ব আদায়ের নির্ভরতা কমিয়ে তা ব্যক্তিপর্যায়ে নিতে হবে।”

অবশেষে, এনবিআর চেয়ারম্যান দেশের রাজস্ব উৎপাদন বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত। ঢাকা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ এর জন্য দায়ী নয়।