চাকরি বা ক্যারিয়ার নিয়ে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় ভয়ের নাম 'এআই' বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। তবে এই প্রযুক্তি মানুষের জায়গা দখল করবে, নাকি মানুষের সহায়ক হয়ে উঠবে - তা নিয়ে ভিন্ন এক আশার কথা জানিয়েছেন লিংকডইনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রায়ান রোসলানস্কি। তার মতে, যান্ত্রিক এই যুগে টিকে থাকতে হলে মানুষের এমন কিছু গুণের ওপর জোর দিতে হবে, যা কোনো রোবট বা কোডিংয়ের পক্ষে অর্জন করা অসম্ভব।
তরুণ প্রজন্মের জন্য তিনি বিশেষ পাঁচটি মানবিক দক্ষতার কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলোকে বলা হচ্ছে '৫ সি'। নিচে তা তুলে ধরা হলো:
১. নতুন কিছু জানার আগ্রহ (Curiosity)
এআই কাজ করে মূলত সংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতে। কিন্তু মানুষের বিশেষত্ব হলো তার প্রশ্ন করার ক্ষমতা। প্রথাগত নিয়মের বাইরে গিয়ে 'কেন' বা 'কীভাবে' - এই জিজ্ঞাসা থেকেই জন্ম নেয় নতুন কোনো পথ। এই অদম্য কৌতূহলই একজন কর্মীকে এআই-এর চেয়ে এগিয়ে রাখে।
২. সাহসী সিদ্ধান্ত (Courage)
হিসাব-নিকাশ বা পরিসংখ্যান এআই দিতে পারে, কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা কেবল মানুষেরই আছে। যখন কোনো প্রজেক্টে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, তখন সব তথ্য হাতের কাছে না থাকা সত্ত্বেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার নামই হলো সাহস, যা কর্মক্ষেত্রে আপনার নেতৃত্বকে ফুটিয়ে তোলে।
৩. সৃজনশীল উদ্ভাবন (Creativity)
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল বিদ্যমান তথ্যের পুনর্বিন্যাস করতে পারে। কিন্তু সম্পূর্ণ নতুন কিছু কল্পনা করা বা একদম শূন্য থেকে কোনো আইডিয়া তৈরি করা কেবল মানুষের পক্ষেই সম্ভব। সৃজনশীলতা মানে শুধু শিল্পচর্চা নয়, বরং যে কোনো সমস্যার ভিন্নধর্মী সমাধান বের করাও এক বড় সৃজনশীলতা।
৪. সহানুভূতি ও মমতা (Compassion)
যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তার আবেগ নেই। সহকর্মীর বিপদে তার পাশে দাঁড়ানো কিংবা কোনো কর্মীর মানসিক অবস্থা বুঝে তাকে ছাড় দেওয়া - এসব মানবিক আচরণ কেবল একজন মানুষই করতে পারেন। এই সহমর্মিতাই একটি কর্মপরিবেশকে প্রাণবন্ত ও একতাবদ্ধ করে তোলে।
৫. কার্যকর যোগাযোগ (Communication)
এআই খুব সুন্দর করে কথা সাজিয়ে দিতে পারে বা অনুবাদ করতে পারে, কিন্তু কথার পেছনের আবেগ বা গুরুত্ব প্রকাশ করতে পারে না। সঠিক সময়ে সঠিক কথাটি বলা, সহকর্মীদের অনুপ্রাণিত করা এবং গভীর কোনো ভাবনাকে অন্যের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার দক্ষতাই মানুষকে অনন্য করে রাখে।
প্রযুক্তির জোয়ারে গা ভাসিয়ে না দিয়ে বরং নিজেদের এই পাঁচটি বিশেষ গুণে নিজেকে দক্ষ করে তোলা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণদের জন্য কেবল পুঁথিগত বিদ্যা বা যান্ত্রিক দক্ষতার চেয়ে এই মানবিক গুণগুলো ঝালিয়ে নেওয়া বেশি জরুরি। মনে রাখতে হবে, এআই আপনার কাজের গতি বাড়াতে পারে, কিন্তু আপনার মানবিক আবেদন আর বুদ্ধিদীপ্ত উপস্থিতির বিকল্প কখনোই হবে না।