যেসব উপায়ে এসি ব্যবহারে বিদ্যুৎ বিল অর্ধেক কমানো সম্ভব!

তীব্র তাপদাহে গরম থেকে বাঁচতে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ব্যবহার করে থাকেন অনেকেই। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রটি প্রচণ্ড গরম থেকে মুক্তি দিলেও মাসের শেষে ঠিকই বিদ্যুৎ বিল বাবদ বড় অঙ্কের খরচ গুণতে হয়। তবে এসি ব্যবহারে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে বিদ্যুৎ খরচ ৫০% সাশ্রয় করা সম্ভব।

যেভাবে এসি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ বিল কমিয়ে আনা সম্ভব-

সঠিক ডিফল্ট তাপমাত্রা নির্ধারণ: এবছরের প্রথমদিকে এসি উত্পাদনকারীদের নিজেদের ডিভাইসের ডিফল্ট তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড রাখা বাধ্যতামূলক করে ব্যুরো অফ এনার্জি এফিশিয়েন্সি (বিইই)। এর আগে যা ছিল ২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। বিশেষ জরিপে দেখা যায়, তাপমাত্রা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রতিটি ডিগ্রির জন্য প্রায় ৬% বিদ্যুতের সঞ্চয় হয়। সুতরাং কেউ যদি এসিটিকে তার ডিফল্ট তাপমাত্রায় চালিয়ে রাখে, তাহলে ২৪% পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। 

১৮° সেন্টিগ্রেডের বদলে তাপমাত্রা ২৪° সেন্টিগ্রেড রাখা: যেসব শহর বা অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা ৩৪-৩৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে থাকে, সেখানে এসিটি ১০ ডিগ্রি কম রেখে দেওয়া ভালো। এসিতে তাপমাত্রা প্রতি ডিগ্রি কমাতে ৬% বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। তাই এসির তাপমাত্রা ১৮° সেন্টিগ্রেডের পরিবর্তে  ২৪° সেন্টিগ্রেড রাখলে ঘর যথেষ্ট শীতল রাখার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচও সাশ্রয় করা সম্ভব।

রুমের দরজা-জানালা এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখা: এসি ব্যবহারের আগে রুমের দরজা-জানালা বন্ধ রাখলে পুরো কক্ষ বায়ুনিরোধী হয়ে যায়। ফলে রুম দ্রুত ঠাণ্ডা হবে। টেলিভিশন-রেফ্রিজারেটরের মতো বৈদ্যুতিক যন্ত্রগুলো প্রচুর তাপ উৎপন্ন করায় এসি চালুর কিছুক্ষণ আগে সেগুলো বন্ধ করে দিয়ে রুমের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হওয়ার পর এসি চালানো উচিত।

মাঝেমাঝে এসি অফ রাখা: একটানা দীর্ঘ সময় এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ খরচ কমাতে এ কৌশলটি বেশ কার্যকর। কয়েক ঘন্টা ধরে এসি চালু রাখার পরে আরও এক বা দুই ঘন্টা এসি বন্ধ রাখা হলে একদিকে যেমন রুম যথেষ্ট ঠান্ডা থাকবে তেমনি বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। 

এসি ও পাখা একসঙ্গে চালু রাখা: এসির আপমাত্রা না কমিয়েও রুম ঠাণ্ডা রাখা সম্ভব। সেক্ষেত্রে এসি চালু রাখার পাশাপাশি রুমের সিলিং ফ্যানটিকে (২ বা ৩ এ) চালু করে দিতে হবে। ফলে এসি থেকে নির্গত ঠান্ডা হওয়া গোটা রুমে ছড়িয়ে পড়বে। সেই সঙ্গে খরচও বাড়াবে না।

নিয়মিত এসি পরিষ্কার রাখা ও সার্ভিসিং করা: দীর্ঘদিন ধরে এসি সার্ভিসিং অথবা পরিষ্কার না করা হলে এর কর্মদক্ষতা কমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হয়। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর এসি সার্ভিসিং করা উচিত। পাশাপাশি এসির ভেতরের ভেন্টগুলোও পরিষ্কার করতে হবে। তাছাড়া, নতুন ফিল্টার লাগালে এসির কর্মদক্ষতা বাড়বে ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।