ঘুমের সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টির সম্পর্ক কমবেশি সবারই জানা। ভালো ঘুমের সঙ্গে শোয়ার ধরনের সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে এসেছে বিভিন্ন গবেষণায়। তবে, শোয়ার ধরন শুধু ভালো ঘুমের সঙ্গেই সম্পর্কযুক্ত নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দাম্পত্য সম্পর্কের অবস্থাও। চলুন জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে-
বিছানায় একজন সঙ্গীর প্রাধান্য
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে দেখলেন বিছানার এক প্রান্তে কোনোরকমে শুয়ে আছেন আপনি, আর বিছানার সিংহভাগ দখল করে হাত পা ছড়িয়ে ঘুমিয়ে আছেন আপনার সঙ্গী। এমন ঘুমের অবস্থান কিন্তু সম্পর্কেও একজন সঙ্গীর আধিপত্যই ইঙ্গিত করে। হয় আপনাদের সম্পর্কে কোনো সমস্যা রয়েছে, অথবা আপনি বাধ্য হচ্ছেন একটু নুয়ে থাকতে। সম্পর্কের সমস্যাগুলো সমাধান হলে এ ব্যাপারটাও ঠিক হয়ে যাবে আশা করা যায়।
পরস্পরকে না ছুঁয়ে মুখোমুখি ঘুমোনো
সম্পর্কে কিছু একটার অভাব রয়েছে, এই অবস্থান সেটাই বলছে। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের এই অবস্থানটি পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতা ও সংযোগের চাহিদা নির্দেশ করে।
পরস্পরের উল্টো দিকে ফিরে ঘুমোনো
আপনারা যদি পরস্পরের উল্টো দিকে মুখ করে ঘুমান আর আপনাদের মাঝে খানিকটা ফাঁক থাকে, তাহলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে আপনারা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন। তবে সত্যি হলো, আপনাদের সম্পর্ক সুখী, পরিতৃপ্ত ও নিশ্চিন্ত। পরস্পরের প্রতি আপনাদের নির্ভরতা অটুট এবং একই সঙ্গে নিজেদের স্বাধীন মনোভাবটাও ধরে রাখতে জানেন।
স্পুনিং পজিশন
অর্থাৎ দু’জন একই দিকে মুখ করে ঘুমান এবং একজন অপরজনকে জড়িয়ে রাখেন। এই অবস্থানে ঘুমোনোর অর্থ হলো একজন সঙ্গী অপরজনকে সমস্ত ঝড়ঝাপটা থেকে সুরক্ষিত রাখতে চান। এদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসও যথেষ্ট।
পরস্পর মুখোমুখি জড়িয়ে ঘুমোনো, এরপর আলাদা হয়ে যাওয়া
এই অবস্থানে যারা ঘুমান তারা ঘুমের প্রথমদিকটায় পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে থাকলেও মিনিট দশেকের মধ্যে আলাদা হয়ে গিয়ে যে যার মতো ঘুমিয়ে থাকেন। পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতা আর ব্যক্তিস্বাধীনতা, দুটো দিকই বজায় রাখার ইঙ্গিতবাহী এই অবস্থানটি।
সারা রাত মুখোমুখি জড়িয়ে ঘুমোনো
এই অবস্থানটি শুনতে খুবই রোমান্টিক মনে হলেও সম্পর্কের স্বাস্থ্যের পক্ষে খুব একটা ভালো নয়। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন ব্যক্তিস্বাধীনতার অভাব বোঝায়, অন্যদিকে সম্পর্কে একটা নিরাপত্তার অভাবও সূচিত করে।
পরস্পরের উল্টো দিকে কিন্তু কাছাকাছি ঘুমোনো
দম্পতিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এই অবস্থানটি। এই অবস্থানে স্বামী স্ত্রী পরস্পরের দিকে পেছন ফিরে ঘুমালেও তাদের মধ্যে কোনো ফাঁক থাকে না, তাদের শরীরের নিম্নাংশ পরস্পরকে ছুঁয়ে থাকে। এর অর্থ, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি খুশি ও নির্ভরশীল।
সঙ্গীর বুকে মাথা রেখে ঘুমোনো
সাধারণত বিয়ের প্রথমদিকে ঘুমান বেশিরভাগ দম্পতি। পরস্পরের প্রতি গভীর ভালোবাসা আর নির্ভরতার ইঙ্গিত দেয় এই অবস্থানটি।পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র ৪% দম্পতি এভাবে ঘুমোন। কাজেই আপনাদের ঘুমানোর ধরন ঠিক এমন না হলে দুঃখ পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
সূত্র: ফেমিনা