রক্তের গ্রুপ বলে দেবে কোন মানুষের ব্যক্তিত্ব কেমন, কোন ধরনের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা উচিত, আর কাদের এড়িয়ে চলা উচিত। শুধু তাই নয়, কোনো ব্যক্তির ভবিষ্যদ্বাণীও করতে পারে পারে তার রক্তের গ্রুপ। রক্তের গ্রুপের উপরই নাকি অনেকটাই নির্ভর করে মানুষের ব্যক্তিত্ব, এমন মতামত জাপানের বিজ্ঞানীদের।
জাপানে এই ব্লাড-গ্রুপ পার্সোনালিটিকে বলা হয় “কেতসুয়েকি-গাতা”। এই কেতসুয়েকি-গাতা হলো এক ধরনের স্যুডো সায়েন্স অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত না হলেও, এটিকে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হিসেবে দাবি করা হয়।
এদিকে আরেক দল বিজ্ঞানীদের দাবি, রক্তের গ্রুপ দেখে মানুষের ব্যক্তিত্ব বলে দেওয়ার বিষয়টিকে কোনোভাবেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলা যায় না। বরং, এটিকে তারা কুসংস্কার বলে থাকেন।
তবে জাপানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ব্লাড-গ্রুপ পার্সোনালিটি বিশ্বাস করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মতো পশ্চিমী দেশগুলিতে “কেতসুয়েকি-গাতা”-র প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।
“আ স্টাডি অফ টেম্পারমেন্ট অ্যান্ড ব্লাড-গ্রুপস” শীর্ষক এক রিপোর্টে “কেতসুয়েকি-গাতা”র কথা প্রথম উল্লেখ করেন জাপানি গবেষক তোকেজি ফুরুকাওয়া। “কেতসুয়েকি-গাতা”য় বিশ্বাসীরা মনে করেন যে, রক্তের চারটি গ্রুপের ব্যক্তিরা স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হন।
এ কারণেই জাপানে রক্তের ধরনকে “কেটসুয়েকি-গাটা” বলে বিবেচনা করা হয়। তারা রক্তের বিভিন্ন গ্রুপ অনুযায়ী নির্ধারণ করে থাকেন কে ভাগ্যবান বা কে কী ধরনের চাকরি পাবেন। এমনকি কে কেমন মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়াবেন তাও নাকি রক্তের গ্রুপ জেনে বলে দেওয়া সম্ভব!
এবার মিলিয়ে নিন আপনি কেমন মানুষ
‘ও’ গ্রুপ
যাদের রক্তের গ্রুপ “ও” পজেটিভ বা নেগেটিভ; তারা খুবই আত্মবিশ্বাসী, দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, দুর্দান্ত স্ট্যামিনা এবং সর্বদা হাসি-খুশি প্রকৃতির হয়ে থাকেন। এমন মানুষের উপর আপনি সহজেই নির্ভর করতে পারেন। তবে এরা শুধু তাদের ভালোলাগার মানুষের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মেলামেশা করেন। তারা কখনো কখনো অন্যের প্রতি উদাসীন থাকেন এবং নিজেকে নিয়ে বেশি ভাবেন। তবে তারা কাজ করতে কখনো আলস্যবোধ করেন না। অনেক কর্মঠ হয়ে থাকেন।
‘এ’ গ্রুপ
“এ” গ্রুপ রক্ত যাদের তারা অন্তর্মুখী, বুদ্ধিমান, সংরক্ষিত এবং সৎ হয়ে থাকেন। তারা সবসময় পারফেক্ট থাকার এবং চলার চেষ্টা করেন। অর্থাৎ অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে থাকেন তারা। এ গ্রুপের রক্ত যাদের শরীরে বইছে, তাদের মস্তিষ্কের কর্টিসেল হরমোন স্বভাবতই বেশি নিঃসরণ হয়। এ কারণে তারা সর্বদা মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন। কখনো কখনো খারাপ আচরণ করে থাকেন। এজন্য যোগব্যায়াম বা চিত্রকর্মের মতো কিছু সহজ কাজকর্মের মধ্যে এ গ্রুপের মানুষদের থাকা জরুরি। তারা কোনো কাজ করার আগে দু’বার চিন্তা করেন। তারা সহজে কাউকে বিশ্বাসও করতে পারেন না।
‘বি’ গ্রুপ
“বি” গ্রুপের মানুষেরা অন্যদের তুলনায় বেশি সৃজনশীল, কৌতূহলী এবং সক্রিয় হয়ে থাকেন। যদিও বি গ্রুপের মানুষদের স্বভাবে স্বার্থপরতা থাকে, তবে তারা সবচেয়ে বেশি যত্নশীল। তারা মানসিকভাবে অনেক শক্ত ও স্বতন্ত্রবাদী হয়ে থাকেন। তারা কখনো কে কি বলবে, সে ভয়ে চলেন না। নিজের মনমতো চলতে পছন্দ করেন। তারা নিজস্ব পথ খুঁজে নেন এবং নিজের নীতিতেই অবিচল থাকেন। সময়বিশেষে তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন এবং একবার কোনো কিছুর বিষয়ে মনস্থির করলে সেটি করেই তারপর থামেন।
‘এবি’ গ্রুপ
মিশ্র রক্তের গ্রুপ যাদের, তাদের বৈশিষ্ট্যও মিশ্র ঘরানার। এবি গ্রুপের মানুষেরা অন্তর্মুখী এবং বহির্মুখী উভয়ই হতে পারেন। তারা কলা এবং বিজ্ঞান বিষয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে থাকেন। তারা স্বভাবতই উচ্চাভিলাষী ও চিন্তাশীল হন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পছন্দ করেন তারা। তাদের ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পরপরই তাদের আবেগের ভিত্তিতে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। কখনো কখনো এমন মানুষেরা দ্বিমুখী আচরণ করে থাকেন। তাদের রক্তের মতোই, ব্যক্তিত্বেও বিরল বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়।