চট্টগ্রামে সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গ্রাফিতিতে “ছাত্র রাজনীতি”র জায়গায় “গুপ্ত রাজনীতি” লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কলেজের চলমান ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে, সকাল থেকে কলেজে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দুপুরের দিকে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। ঘণ্টাখানেক চলতে থাকে এই অবস্থা। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে উভয় পক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কলেজের একটি ভবনের দেওয়ালে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে আঁকা একটি গ্রাফিতির নিচে “ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস”লেখা ছিল। পরে কলেজ শাখা ছাত্রদলের এক নেতা সেটিতে “ছাত্র” শব্দ মুছে “গুপ্ত” শব্দ লিখে দেন। ফলে লেখাটি হয়ে যায় “গুপ্ত রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস”।
সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জেরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
সিটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সৈয়দ সিদ্দীকি রনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শিবিরের নেতা-কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন। শিবির এখানেও গুপ্ত রাজনীতি করতে চায়।”
এ প্রসঙ্গে কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ বিন সাব্বির জানান, আজ কলেজ ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর ছাত্রদল অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়েছে। আদর্শিকভাবে দেউলিয়া ছাত্রদল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। ছাত্রদলের হামলায় শিবিরের কয়েকজন ছাত্র আহত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, “ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে শিক্ষকেরা নিয়ন্ত্রণ আনতে চেষ্টা করেছিলেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আর কোনো সমস্যা হয়নি।”
চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছে। পরে পুলিশ ও কলেজ শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।”