‘পুলিশ নিতে চায় নাই, বিএনপির লোকেরা আমারে ধরাইছে’

কারামুক্ত যুব মহিলা লীগ কর্মী শিল্পী বেগম বলেন, আমাকে পরশু ধরে থানায় নিছে। থানায় নেওয়ার পর আমারে কোর্টে চালান করছে। জোর করে বিএনপির লোকেরা আমারে ধরাইছে। পুলিশ নিতে চায় নাই, বাসা থেকে আমারে ধরাইছে। তারপরে আমারে কোর্টে চালান করছে, পরে কোর্ট আমার জামিন নামঞ্জুর করছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে কাশিমপুর কারাগার থেকে বের হয়ে প্রধান ফটকে সাংবাদিকদের প্রশ্নে সদ্য কারামুক্ত দেড় মাস বয়সের শিশু কাইফা ইসলাম সিমরানের মা ও যুব মহিলা লীগ কর্মী শিল্পী বেগম এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ার পরে আমার জামিন হয়েছে। আমি সিজারের রোগী। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। পুলিশ আমারে নিতে চাইনি। তারপরও বিএনপির লোকেরা আমারে জোর করে ধরাইছে। যুবদলের সেক্রেটারি সুমন আমাকে ধরাইছে। এখন আমি বাচ্চাকে হাসপাতালে দেখাব। দেখানোর পর যদি ভালো হয় তাহলে বাসায় চলে যাব।

শিল্পী বেগম বলেন, আমার কোন পদ পদবী ছিল না। আমি দলকে ভালোবাসি, একজন নগন্য কর্মী।

তিনি মিডিয়া কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজকে মিডিয়ার জন্য আমি মুক্তি পেয়েছি। মুক্তি পেয়ে আমার সন্তানের জন্য ভালো হলো। তীব্র গরমে কারাগারের ভেতরে দেড় মাসের বাচ্চা নিয়ে আমার অনেক কষ্ট হয়েছে।

এর আগে, বুধবার ১২টার দিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া যুব মহিলা লীগ কর্মী শিল্পী বেগম ও তার শিশু সন্তান।

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোছা. কাওয়ালিন নাহার তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছালে তা যাচাই বাছাই শেষে সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

যুব মহিলা লীগ কর্মীকে কাশিমপুর কারাগার থেকে নিতে তার পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা সকাল থেকেই কারাগার ফটকে অপেক্ষা করছিলেন।

গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান তার জামিন মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে শিল্পী বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে আদালতের নির্দেশে শিল্পী বেগম তার দেড় মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য কন্যা সন্তান কাইফা ইসলাম সিমরানকে সঙ্গে নিয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।