সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে, এ ঘটনার তদন্ত করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচার দাবি করেছে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী।
বুধবার (৬ মে) বিকালের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়।
হামকে একটি ‘মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ করার কথাও বলে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সাবেক অন্তর্বর্তী প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। এসময় তারা বিপুল সংখ্যক শিশুর প্রাণহানির জন্য তৎকালীন সরকার প্রধান ড. ইউনূস ও তার স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে দায়ী করে তাদের বিচারের জোর দাবি জানান।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের মুনাফার জন্য এভাবে শিশুদেরকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। শিশু মৃত্যুর অপরাধে তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার।”
বাংলাদেশের ৬৪টা জেলার মধ্যে ৫৮টা জেলার মধ্যে এই হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, “হামকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে এটিকে সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।”
জুবেল আরও বলেন, “হামের এই প্রকোপ এবং এর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা, না ইন্টারিম আমলে দেখেছি, না বর্তমান সরকারের সময়ে দেখছি। বরং মনে হচ্ছে, তারা যেন অপেক্ষা করছে, আর কত শত প্রাণ ঝরে যাবে, কত শিশুর জীবন বিনষ্ট হবে।”
যদি জীবন রক্ষায় এখনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে এই সরকারের বিরুদ্ধে আরও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে হুঁশিয়ারি দেয় ছাত্রনেতারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে হামের অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপনে আপত্তি জানানোর কারণে ডাকসু নেতাদের সমালোচনা করেন তারা। সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ বক্তব্য রাখেন।



