‘জামায়াতকে জানতে হলে ১০০ বছরের ইতিহাস জানতে হবে’

জামায়াতে ইসলামীকে জানতে হলে দলটির দীর্ঘ ১০০ বছরের ইতিহাস জানতে হবে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদে বক্তব্য রেখেছেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী আদতে ইসলামি দল নাকি অন্য কিছু, তা নির্ধারণের জন্য কারও কাছ থেকে ফতোয়া নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতের এই সদস্য এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে গত ৯ জুন সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছিলেন, “ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। আমাদের জনাব ফখরুল ইসলাম ইসলাম নয়। জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা ও কটাক্ষ করে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “আমাদের চট্টগ্রামের আরেক কৃতী সন্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আজকে আমাদের চট্টগ্রামে একটা কথা এসেছে, ফতোয়ার জন্য আর মাদ্রাসায় যেতে হবে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন? বলে, ফতোয়া তো আপনাদের এই পার্লামেন্টে দেওয়া হয়। ফতোয়া কী রকম? ফখরুল ইসলাম মাননীয় মন্ত্রী, উনি যেমন ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামী ইসলাম নয়।”

তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে আরও বলেন, “আমাদের চট্টগ্রামে এখন বলতেছে, হাল জামানার মুফতি তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)। আমরা ফতোয়ার জন্য আর হাটহাজারী যাব না। ফতোয়ার জন্য পটিয়া যাব না। ফতোয়ার জন্য লালবাগে যাব না। আমাদের এই মহান পার্লামেন্টে জামায়াতে ইসলামীকে ইসলামি দল নয় বলে যিনি বলেন, তার কাছ থেকেই আমরা ফতোয়া নেব।”

এদিকে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের কড়া জবাব দেন বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিন। তিনি কোনো রাজনৈতিক তর্কে না জড়িয়ে সরাসরি ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিরোধী দলের বেঞ্চের দিকে ইঙ্গিত করে জয়নুল আবেদিন বলেন, “শুধু একটা কথা বলতে চাই। নিজের কথা নিজেরাই বিচার করেন। আপনারা ’৭১ সালে কোথায় ছিলেন? নিজেরাই বিচার করেন। আমাদের বলার দরকার নাই।”

মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের দিকে তাকানোর আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, “স্বাধীনতার এক দিন আগে কারা হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে? কেন, কারা বুদ্ধিজীবীশূন্য করতে চেয়েছিল বাংলাদেশকে?”

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে জয়নুল আবেদিন আরও বলেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, তাদের অবশ্যই স্মরণ করতে হবে; কিন্তু তাই বলে ১৯৭১ সালের ইতিহাসকে কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া যাবে না।