এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ, নির্যাতন ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ

বগুড়া জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে এক ব্যাংকারকে অপহরণ করে নিয়ে মারধর, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং পরে বিকাশে আরও টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী আশরাফুল ইসলাম এ ব্যাপারে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ব্যাংকার আশরাফুল ইসলাম অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তিনি ইসলামী ব্যাংক নওগাঁ শাখায় কর্মরত। তিনি গত শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের নতুন ভবনের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে বেতন উত্তোলন করেন। এরপর তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ির দিকে রওনা দেন। পথিমধ্যে তিনমাথা রেলগেট অতিক্রম করে ফ্লাইওভারের নিচে পৌঁছলে এনসিপি নেতা শওকত ইমরান ও অজ্ঞাত আরও চারজন দুটি মোটরসাইকেল দিয়ে তার অটোরিকশার গতিরোধ করেন। এরপর তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে বগুড়া মহানগরীর পুরান বগুড়ার একটি ছাত্রাবাসে নিয়ে আটকে রাখা হয়।

আশরাফুল দাবি করেন, সেখানে তাকে চড়-থাপ্পড়, কিলঘুষি ও লাথি মেরে নির্যাতন করা হয়। এরপর চাকু ধরে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তার কাছে নগদ ৮২,০০০ টাকা, দুটি মোবাইল ফোন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র, ইসলামী ব্যাংকের এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নেয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাদের ইচ্ছামত একটি জবানবন্দি ভিডিও রেকর্ড করেন। পরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি বিকাশ নম্বরে আরও ২০,০০০ টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। টাকা না পাঠালে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ ব্যাপারে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

বগুড়া জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এমএসএ মাহমুদ জানান, শওকত ইমরানের বিষয়টি তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন। অভিযোগের সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, জেলা এনসিপি নেতা শওকত ইমরানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গত শনিবার একটি অপহরণ, নির্যাতন ও ছিনতাইয়ের অভিযোগপেয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।