দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন কিনেছেন ৭৪৭ জন। যার ৬০% প্রার্থীই ক্ষমতাসীন দলের।
শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) শুরু হওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হবে সোমবার।
বিএনপিসহ ১৩টি নিবন্ধিত দল ভোট বর্জন করেছে। তবে ৩০০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ৭৪৭ জন। আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ৪৪২ জন।
২০১৮ সালে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ৪৯৮ জন। এরমধ্যে ১১৪ জনের নথি বৈধ ছিল। বাকিদের কাউকে ১% স্বাক্ষর ও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে না পারার জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল।
বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রার্থীদের একটি বড় অংশই ছিলেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা, যারা দলের সিদ্ধান্ত মেনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ৪২৪ জন, ১৯৯৬ সালে ২৮৪ জন, ২০০১ সালে ৪৮৬ জন, ২০০৮ সালে ১৫১ জন ও ২০১৪ সালে ১০৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।
তবে এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করতে ক্ষমতাসীন দল তাদের দলের নেতাকর্মীসহ অন্যদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
হবিগঞ্জ-২ আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ খান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে মজিদ খান নির্বাচনে জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বাধা নেই, তাই সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি।
মজিদ খানের মতো আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে দলের অভ্যন্তরীণরা সতর্ক করেছেন, এটি দলাদলি ও সহিংসতা বাড়াতে পারে।
মোট ৪৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তাদের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ৩০০ আসনের বিপরীতে মোট ২,৭৪১টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
যাচাই-বাছাই শেষে, ইসি ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল শুনবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। ইসি ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ করবে। এরপরই প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।