বিভাগ চট্টগ্রাম: যেসব আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম বিভাগের ১৮টি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব আসনের মধ্যে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে রয়েছে সাতটি আসন। এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিনটি, কুমিল্লায় তিনটি, চাঁদপুরে একটি, নোয়াখালীতে দুটি, লক্ষ্মীপুরে একটি এবং কক্সবাজারের একটি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের সাতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে

চট্টগ্রাম-১: মিরসরাই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে মাহবুব উর রহমান। এই আসনে শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন। আরও পাঁচজন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই হবে মাহবুব ও গিয়াসের মধ্যে।

চট্টগ্রাম-২: ফটিকছড়ি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখী। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য জোট শরিক ত্বরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি। বিএসপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ। এর বাইরে আরও পাঁচজন প্রার্থী থাকলেও মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে খাদিজাতুল আনোয়ার, নজিবুল বশর ও সাইফুদ্দিনের মধ্যে।

চট্টগ্রাম-৫: আসনটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এই আসনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেয়নি। জাতীয় পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এই আসনে আনিসুলের বড় বাধা হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাজাহান চৌধুরী। এই দুইজনের মধ্যেই মূল লড়াই হবে।

চট্টগ্রাম-৮: আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন সোলায়মান আলম শেঠ। তার বিপরীতে শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত আবদুচ ছালাম। এই আসনে আরেকজন শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন বিজয় কুমার চৌধুরী। সাবেক এই ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পক্ষে মাঠে নেমেছেন সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির।  মূল লড়াইয়ে আছেন আবদুচ ছালাম, বিজয় কুমার সোলায়মান শেঠ।

চট্টগ্রাম-১০: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৮,১১,১২,১৩,১৪,২৪,২৫ ও ২৬ ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসনে শক্তিশালী প্রার্থী হচ্ছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম। এই আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন মহিউদ্দিন বাচ্চু। এর বাইরে প্রার্থী আছেন আরও সাতজন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মনজুর ও বাচ্চুর মধ্যে। এর মধ্যেও মনজুর অনেক এগিয়ে আছেন ভোটের মাঠে। 

চট্টগ্রাম-১২: পটিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে নৌকার প্রার্থী হচ্ছেন মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত সামশুল হক চৌধুরী। এছাড়া আরও পাঁচ জন প্রার্থী আছেন এই আসনে। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মোতাহেরুল ও সামশুল হকের মধ্যে। 

চট্টগ্রাম-১৫ লোহাগড়া উপজেলা এবং সাতকানিয়া উপজেলার কেউচিয়া, কালিয়াইশ, বাজালিয়া, ধর্মপুর, পূরানগড় ও খাগরিয়া ব্যতীত এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন আবু রেজা মো. নেজামউদ্দিন নদভী। এ আসনে শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন আবদুল মোতালেব। আরও তিন জন প্রার্থী থাকলে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন নদভী ও মোতালেব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১, ২ ও ৩ এই তিনটি আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া -১: এই আসনে নৌকার প্রার্থী বি এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম। তার সঙ্গে তীব্র লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: আশুগঞ্জ ও সরাইল উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী নেই। আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। লাঙ্গল প্রতীক জোটের প্রার্থী হিসেবে আছেন রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া। আওয়ামী লগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মঈন উদ্দিন মঈন। এছাড়া জাতীয় পার্টির মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈনের সঙ্গে জাতীয় পার্টির রেজাউল ইসলামের।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩:  ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য র.আ.ম.উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী আবারও নৌকার প্রার্থী। এই আসনে লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মুক্তাদির ও ফিরোজের মধ্যে।

কুমিল্লা-৫, ৬ ও ১১ এই তিনটি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে

কুমিল্লা-৫: বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসেম খান। তার সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ।

কুমিল্লা-৬: কুমিল্লা সদরের এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আ. ক. ম. বাহাউদ্দিন বাহার। এই আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন একাদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি আঞ্জুম সুলতানা সীমা। এই দুইজনের মধ্যে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। 

কুমিল্লা-১১: চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে নৌকার প্রার্থী সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। এই আসনে আরও ছয়জন প্রার্থী আছেন। তবে আলোচনায় আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান। চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার সাবেক এই মেয়র ছিলেন মুজিবুল হকের ডান হাত। তবে এই আসনে প্রথমে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

চাঁদপুর-৪ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে

চাঁদপুর-৪: ফরিদগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিকুর রহমান। তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জালাল আহমেদ সিআইপি। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনএমের শাহজাহান, যিনি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য। এই আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

নোয়াখালী-২ ও ৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে

নোয়াখালী-২: এই আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মোরশেদ আলম। এই আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক। মানিক প্রার্থী হিসেবে নতুন হলেও মোরশেদের সঙ্গে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

নোয়াখালী-৪: নোয়াখালী সদর ও সুবর্ণচর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী। এই আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন। এই দুইজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে

লক্ষ্মীপুর-৪: এই আসনে মহাজোট মনোনীত নৌকার প্রার্থী জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সাবেক সদস্য মোশারফ হোসেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ইস্কান্দার মির্জা শামীম এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ। এর মধ্যে মোশারফ হোসেনের সঙ্গে আবদুল্লাহ আল মামুনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

কক্সবাজার-১ আসনে শক্ত লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা

কক্সবাজার-১: চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নেই। কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারের (অব.) সৈয়দ ইব্রাহিম বীরপ্রতীকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলমের। জাফর আলম আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত এবং এই আসনের সাবেক এমপি।

পিম্পল বড়ুয়া, মহসিন কবির, আব্দুল আজিজ ও রফিকুল ইসলাম এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন