বিশ্বকাপ খেলতে ইরানের ফুটবলারদের ভিসা দিলো যুক্তরাষ্ট্র

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ইরান ফুটবল দলকে ভিসা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।  

দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজেদের প্রথম ম্যাচ শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে ইরানের ফুটবল খেলোয়াড়দের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা।  

শুক্রবার (৫ জুন) তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় ভিসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ইরান জাতীয় ফুটবল দলের ভিসাপ্রক্রিয়ার কাজটি চমৎকারভাবে সম্পন্ন করায় আঙ্কারায় মার্কিন দূতাবাসের পুরো টিমকে নিয়ে আমি গর্বিত।”

ইরান দল বর্তমানে আনতালিয়াতে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প করছে। সেখান থেকে তারা আঙ্কারায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে ভিসার জন্য আবেদন করে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচ, ফিটনেস ট্রেইনার এবং কিছু সহায়ক স্টাফের জন্যও ভিসা অনুমোদন করা হয়েছে। তবে কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার পরই দলটি যুক্তরাষ্ট্র বা মেক্সিকোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারবে।

এবার উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ইরানের মূল বেজক্যাম্প মেক্সিকোতে হলেও গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই তারা খেলবে যুক্তরাষ্ট্রে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনার কারণেই তারা বেজক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেয়।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “ইরানের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বিষয়ে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। বিশেষ করে ইসলামিক রেভলশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন কাউকে প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।” 

তিনি আরও বলেন, “অ্যাথলেট বা তাদের সহায়ক কর্মীদের নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পর্কহীন এবং আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হবে না।”

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরান তাদের প্রথম দুটি ম্যাচ খেলবে ইঙ্গেলউডে। ১৫ জুন তারা মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ডের এবং ছয় দিন পর খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। তৃতীয় ম্যাচে ২৬ জুন সিয়েটলে তাদের প্রতিপক্ষ হবে মিশর।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো যৌথভাবে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। জবাবে ইরানের জাতীয় দল জানায়, কেউ আমাদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দিতে পারবে না।