ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের নতুন এওয়ে জার্সি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। জার্সির গায়ে থাকা গাঢ় নীল-সবুজ জ্যামিতিক নকশাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও দাবি ছড়িয়ে পড়েছে।
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের একাধিক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, জার্সির নকশার মধ্যে শিংওয়ালা শয়তান বা ছাগলের মাথার মতো একটি অবয়ব দেখা যায়। বিষয়টি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়লে ফুটবলপ্রেমী ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বিশেষ করে ধর্মীয় রক্ষণশীল কিছু গোষ্ঠী নকশাটিকে অপশক্তি বা ওকাল্ট প্রতীকের সঙ্গে তুলনা করে সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, জাতীয় দলের জার্সিতে এমন নকশা ব্যবহার বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
তবে জার্সির ডিজাইনার প্রতিষ্ঠান নাইকি এ অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচিত গ্রাফিক্সের সঙ্গে শয়তান বা কোনো ধর্মীয় প্রতীকের সম্পর্ক নেই। বরং নকশাটি অনুপ্রাণিত হয়েছে আমাজন রেইনফরেস্টে পাওয়া এক ধরনের বিষাক্ত ব্যাঙের চামড়ার নকশা থেকে।
নাইকি জানিয়েছে, এই ডিজাইনের মাধ্যমে ব্রাজিল দলের আক্রমণাত্মক, গতিময় এবং প্রতিপক্ষের জন্য বিপজ্জনক খেলার ধরনকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে ব্যাখ্যা দেওয়ার পরও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। কেউ নকশাটিতে শয়তানের অবয়ব খুঁজে পাচ্ছেন, আবার কেউ বলছেন এটি ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্যানারি পাখির আকৃতির সঙ্গে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। ফলে একই নকশাকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে আসছে।
এদিকে অনেক সমর্থক জার্সিটির আধুনিক, সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমী ডিজাইনের প্রশংসা করেছেন। তবে সমালোচকদের একটি অংশ এখনো নাইকির ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়।
সব মিলিয়ে ব্রাজিলের নতুন এওয়ে জার্সি মাঠের পারফরম্যান্সের আগেই নকশাগত বিতর্কের কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।



