Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দুটি বড় সমস্যায় পড়তে পারে ব্রাজিল

কার্লো আনচেলত্তির দলের কিছু দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম

বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এরই মধ্যে হেক্সা মিশনের লক্ষ্যে আসরের অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছে। উড়াল দেওয়ার ঠিক আগের দিন শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত করে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে বড় জয়ের এই উৎসবের মধ্যেও কোচ কার্লো আনচেলত্তির দলের কিছু সুনির্দিষ্ট দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা বিশ্বকাপে সেলেকাওদের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

পানামার বিপক্ষে ম্যাচটিতে ব্রাজিল বড় ব্যবধানে জিতলেও প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স ছিল বেশ হতাশাজনক। গ্যাব্রিয়েল মাগালহাস, মার্কিনোস এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তেনেল্লিকে বিশ্রামে রেখে আনচেলত্তি যে শুরুর একাদশ সাজিয়েছিলেন, তা ম্যাচে মোটেও প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। উল্টো পুঁচকে পানামার চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল তাদের। পরবর্তীতে দ্বিতীয়ার্থের ১০টি পরিবর্তনের পর ব্রাজিল তার চেনা ছন্দে ফেরে এবং গোলবন্যা বইয়ে দেয়।

ম্যাচ থেকে ব্রাজিলের প্রথম যে সমস্যাটি সামনে এসেছে, তা হলো আক্রমণের ধরন। প্রথমার্ধে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডদের আক্রমণ গড়তে গিয়ে বেশ তাড়াহুড়ো করতে দেখা গেছে। দল মূলত লং পাস এবং কাউন্টার অ্যাটাকনির্ভর ফুটবল খেলছিল। সে সময় মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ডিফেন্স-চেরা সৃষ্টিশীল পাস দেওয়ার মতো একজন মিডফিল্ডারের অভাব গভীরভাবে অনুভূত হয়েছে। দ্বিতীয়ার্থে লুকাস পাকেতা মাঠে নামার পর এই সমস্যার সমাধান হয় এবং দলের খেলায় গতি আসে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্রাজিলের মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারেস কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারায় ফরোয়ার্ডদের কাছে পর্যাপ্ত পাস পৌঁছাচ্ছে না। কোচ আনচেলত্তি রিয়াল মাদ্রিদে যে ফরমেশনে খেলিয়ে সফল হয়েছেন, সেখানে লুকা মডরিচ বা টনি ক্রুসের মতো খেলোয়াড়দের ভূমিকা ছিল অনন্য। কিন্তু বর্তমান ব্রাজিল দলে সেই মানের সৃষ্টিশীল মিডফিল্ডারের ঘাটতি রয়েছে।

ব্রাজিলের দ্বিতীয় বড় সমস্যাটি দেখা গেছে আক্রমণভাগের মূল স্ট্রাইকার বা 'নাম্বার নাইন' পজিশনে। আনচেলত্তির শুরুর একাদশে কোনো জেনুইন স্ট্রাইকার ছিল না। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড ম্যাথিউস কুনহাকে সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলানো হলেও তিনি প্রতিপক্ষের বক্স থেকে অনেকটা দূরে খেলছিলেন, যা তাঁর চেনা পজিশন নয়। ফলে প্রথমার্ধে মাঠে তাঁর উপস্থিতিই সেভাবে টের পাওয়া যায়নি।

তবে দ্বিতীয়ার্থে কুনহার পরিবর্তে জেনুইন স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগো মাঠে নামতেই আমূল বদলে যায় ব্রাজিলের আক্রমণভাগ। থিয়াগোর দারুণ নৈপুণ্যেই শেষ পর্যন্ত বড় জয় নিশ্চিত হয়।

বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে আনচেলত্তি তার শুরুর একাদশে ইগর থিয়াগোর মতো প্রথাগত স্ট্রাইকারকে রাখবেন, নাকি কুনহাকে দিয়েই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবেন, তা নিয়ে ফুটবল মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শুরুর আগে এই দুই সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে না পারলে মাঠের লড়াইয়ে ব্রাজিলকে কঠিন মূল্য চোকাতে হতে পারে।

   

About

Popular Links

x