Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী তুরস্ক

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

বাংলাদেশ ও তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে একমত হয়েছে। প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এবং তুরস্কের জন্য বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে এবং এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে উভয় দেশ কাজ করছে।

বাংলাদেশ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তার সফরের শেষ গন্তব্য বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় পক্ষের আন্তরিক আগ্রহ রয়েছে।

হাকান ফিদান বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ তুরস্কের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্রুত সম্প্রসারণের সুযোগও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তুর্কি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তুরস্কের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বস্ত্র ও পোশাক শিল্প, প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদন, জাহাজ নির্মাণ, ওষুধ শিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, স্মার্ট প্রযুক্তি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তুরস্ককে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তুরস্কে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোরও অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

   

About

Popular Links

x