যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) নজরদারি ড্রোন হ্যাক করার দাবি করেছে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি হ্যাকার গ্রুপ। একই সঙ্গে আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলকে লক্ষ্য করে তারা বড় ধরনের সাইবার হামলার হুমকি দিয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) অনলাইন পর্যবেক্ষণ সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ ‘হান্দালা’ নামের ওই হ্যাকার গ্রুপের একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে হ্যাকাররা দাবি করেছে, এফবিআইয়ের ব্যবহৃত এফপিভি (ফার্স্ট-পার্সন ভিউ) ড্রোনের ধারণ করা প্রতিটি ছবি এবং সন্দেহভাজনদের স্পর্শকাতর তথ্যে তারা কয়েক মাস ধরে প্রবেশাধিকার বজায় রেখেছে।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিয়োজিত এফবিআইয়ের এই বিশেষ ড্রোনগুলোতে মানুষের চেহারা শনাক্তকরণ (ফেসিয়াল রিকগনিশন) এবং গাড়ির লাইসেন্স প্লেটের তথ্য পৃথক করার মতো অত্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। অননুমোদিত কোনো আকাশযান বা ড্রোনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামগুলোর চারপাশে এই ড্রোনগুলো মোতায়েন করছে এফবিআই। এছাড়া টুর্নামেন্ট চলাকালীন স্টেডিয়াম ও সংশ্লিষ্ট ইভেন্টগুলোর ওপর ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নিরাপত্তার এই কঠোর বলয়ের মধ্যেই হুমকি দিয়ে হান্দালা বলেছে, আপনাদের বিশ্বকাপের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা দরকার। কারণ অংশগ্রহণকারী দলগুলোর কয়েকটিকে আমরা মোটেও পছন্দ করি না। ভুলে যাবেন না এফপিভি ড্রোন সব জায়গায় আছে। আপনারা কখনোই জানবেন না যে কখন একটি ড্রোন ঠিক কোন দলের বাসের ভেতরে গিয়ে হাজির হবে।
নিজেদের দাবির সপক্ষে হান্দালা কিছু ছবি ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে, যেগুলো তাদের দাবি অনুযায়ী হ্যাক হওয়া ড্রোন থেকে নেওয়া। তবে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ হ্যাকারদের এই দাবির বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে।
সংস্থাটি জানায়, হ্যাকিংয়ের প্রমাণ হিসেবে দেখানো একটি ভিডিও মূলত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের। সেটি একটি সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের তৈরি করা ভিডিও ছিল, যা টর্নেডোর ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার কাজে মার্কিন পুলিশ বিভাগের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এর আগে গত মার্চ মাসে এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেলের ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাকের দাবিও করেছিল এই হান্দালা। সে সময় তারা অনলাইনে প্যাটেলের ব্যক্তিগত ছবি ও কিছু তথ্য প্রকাশ করে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের সম্ভাব্য সাইবার হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছিল মার্কিন বিচার বিভাগ। এবার সরাসরি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে হুমকি আসায় বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে ওয়াশিংটন। ইতোমধ্যে এই হ্যাকার গ্রুপের সদস্যদের শনাক্ত করতে এবং তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য ১ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।