বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল আবারও শিরোপা জয়ের স্বপ্নে মাঠে নামছে। ২০০২ সালের পর দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষা ঘোচাতে “হেক্সা” মিশন শুরু করতে যাচ্ছে সেলেসাওরা। তবে যাত্রার শুরুতেই তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আফ্রিকার উদীয়মান শক্তি মরক্কো।
২০২৫ সালের মে মাসে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন প্রথমবারের মতো বিদেশি কোচ হিসেবে ইতালিয়ান কিংবদন্তি কার্লো আনচেলত্তিকে দায়িত্ব দেয়। ক্লাব ফুটবলে তিন দশকের সাফল্যমণ্ডিত ক্যারিয়ারের পর এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন তিনি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। সর্বোচ্চ পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও জয়ের রেকর্ডও তাদের দখলে। ১৯৩০ সালের প্রথম আসর থেকে শুরু করে প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া একমাত্র দলও তারা। তবে ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জেতা হয়নি দক্ষিণ আমেরিকার এই পরাশক্তির। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে তারা।
তবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পথ সহজ ছিল না। কনমেবল অঞ্চলের বাছাইপর্বে ১৮ ম্যাচে ৮ জয়, ৪ ড্র ও ৬ হারে পঞ্চম স্থানে থেকে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ব্রাজিল। শেষ বাছাই ম্যাচে বলিভিয়ার কাছে ১-০ গোলে হারের ধাক্কাও খেতে হয়েছিল তাদের। এরপর জাপান ও ফ্রান্সের বিপক্ষেও পরাজয়ের স্বাদ পায় দলটি। যদিও আনচেলত্তির অধীনে শেষ তিন ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া, পানামা ও মিসরের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে ব্রাজিল।
বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে থাকা ব্রাজিলের প্রথম প্রতিপক্ষ সপ্তম স্থানে থাকা মরক্কো। আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের রেকর্ড বরাবরই উজ্জ্বল। বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলের বিপক্ষে আট ম্যাচের সাতটিতে জয় পেয়েছে তারা। একমাত্র হারটি আসে ২০২২ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের বিপক্ষে।
অন্যদিকে মরক্কো এবারও বিশ্বকাপের অন্যতম ডার্ক হর্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২২ সালে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া অ্যাটলাস লায়ন্স এবার সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা নিজেদের বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২০২৩ সালের শুরু থেকে ৪৫ ম্যাচে ৩৩ জয়, ১০ ড্র এবং মাত্র ২ হার মরক্কোর ধারাবাহিকতার প্রমাণ। বর্তমানে তারা নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও জার্মানির মতো শক্তিশালী দলগুলোরও ওপরে অবস্থান করছে র্যাঙ্কিংয়ে।
মরক্কোর এই উত্থানের বড় কৃতিত্ব সাবেক কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুইয়ের। তার অধীনে দলটি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে শতভাগ জয়ের রেকর্ড গড়ে। তবে বিশ্বকাপ শুরুর অল্প কিছুদিন আগে দায়িত্ব ছাড়েন তিনি। এরপর সাবেক অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ মোহাম্মদ উয়াভি দায়িত্ব নিয়ে পাঁচ ম্যাচে তিন জয় ও দুই ড্র এনে দিয়েছেন। সর্বশেষ নরওয়ের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে দলটির।
ব্রাজিল ও মরক্কোর মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসও বেশ আকর্ষণীয়। তিন দেখায় দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে ব্রাজিল। তবে সর্বশেষ ২০২৩ সালের মার্চে প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল মরক্কো।
বিশ্বকাপে শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ব্রাজিলের যাত্রা শুরু হলেও প্রথম ম্যাচেই তাদের সামনে থাকছে কঠিন পরীক্ষা। আর মরক্কো চাইবে সাম্প্রতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিতে। ফলে দুই দলের এই লড়াইয়ে উত্তেজনার কমতি থাকার সুযোগ নেই।



