ডাচদের গোলবৃষ্টিতে উড়ে গেলো সুইডেন

প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েও আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ছিল সুইডেন। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের সামনে সেই আত্মবিশ্বাস যেন মুহূর্তেই গলে গেল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়ে সুইডিশদের ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে রোনাল্ড কোমানের দল। এই জয়ে শুধু তিন পয়েন্টই নয়, ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিজেদের করে নিয়েছে ডাচরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে কমলা জার্সিধারীরা। সুইডিশ রক্ষণ ঠিকমতো গুছিয়ে ওঠার আগেই ৫ মিনিটে ব্রায়ান ব্রব্বেই গোল করে এগিয়ে দেন দলকে। ১৭ মিনিটে ডেনজেল ডামফ্রিসের নিখুঁত ক্রস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই স্ট্রাইকার।

দুই গোল হজম করলেও হাল ছাড়েনি সুইডেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ইসাক ল্যাগারবিয়েলকের হেড জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। বিরতির আগে কয়েকটি আক্রমণে ডাচদের চাপে ফেললেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার সব আশা প্রায় শেষ করে দেন কোডি গাকপো। ৪৭ মিনিটে ডামফ্রিসের পাস থেকে এবং ৫৪ মিনিটে ক্রিসেনসিও সামারভিলের বাড়ানো বল জালে জড়িয়ে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন লিভারপুলের এই উইঙ্গার। মুহূর্তেই স্কোরলাইন দাঁড়িয়ে যায় ৪-০।

৫৯ মিনিটে অ্যান্থনি এলাঙ্গার গোলে কিছুটা স্বস্তি পায় সুইডেন। তবে সেটি ছিল কেবল পরাজয়ের ব্যবধান কমানো। শেষ মুহূর্তে সামারভিল নিজেই গোল করে ডাচদের ৫-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন।

স্কোরলাইন একতরফা হলেও লড়াইটা এতটা সহজ ছিল না। সুইডেন আক্রমণে একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু গোলের সামনে ছিল ভীষণ অকার্যকর। বিপরীতে নেদারল্যান্ডস সুযোগ পেলেই শাস্তি দিয়েছে। গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেনও কয়েকটি অসাধারণ সেভ করে বড় ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

এই জয়ে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে নেদারল্যান্ডস। শেষ ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে অন্তত একটি পয়েন্ট পেলেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত হবে তাদের। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে হারানো সুইডেন দ্বিতীয় ম্যাচে একই ব্যবধানে হেরে কঠিন সমীকরণে পড়ে গেছে। শেষ ষোলোর স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে এখন জাপানের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই সুইডিশদের।