ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচে জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে জয় উপহার দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়ায় দুই ঘন্টা বিরতিতে থাকার পর শেষ পর্যন্ত ইরাককে ৩-০ গোলে পরাজিত করে শেষ ৩২-এ পা দিয়েছে ফ্রান্স।
ফিলাডেলফিয়ায় ১৪ মিনিটে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ৯ মিনিটের মধ্যে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন এই ফরাসি তারকা। ৬৬ মিনিটে ফ্রান্সের হয়ে স্কোরশিটে নাম লিখিয়েছেন গত বছরের ব্যালন ডি’অর জয়ী ওসমানে ডেম্বেলে।
এর মাধ্যমে এমবাপ্পের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬। গত সোমবার অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে দুই গোলের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১৮ গোল করে এই তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনয়ক লিওনেল মেসি।
স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি বিরতির সময় প্রচন্ড বজ্রসহ ঝড়ো হাওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। ম্যাচের শুরুতে আবহাওয়া শুষ্ক ছিল। প্রথমার্ধের শেষভাগে বৃষ্টি শুরু হয়। ৬৪,৩২৪ ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ফিলাডেলফিয়ার লিনকন ফিনান্সিয়াল ফিল্ডের বেশিরভাগ অংশই ঢাকা ছিলনা। যে কারণে বাধ্য হয়ে সবাইকে কনকোর্সে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
প্রায় দুই ঘন্টারও বেশী সময় পর দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হয়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কো্নো ম্যাচ আয়োজনে সমস্যায় পড়তে হলো আয়োজকদের। বিশ্বকাপ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ ছিল - এই ধরনের পরিস্থিতিতে যেন কোনোভাবেই ম্যাচ আয়োজন না করা হয়।
এর আগে সেনেগালের বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে জয়ের প্রথম ম্যাচটিতেও দুই গোল করেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা এমবাপ্পে। সেনেগালের বিপক্ষে এই গোলের মাধ্যম ২৭ বছর বয়সী এই তারকা অলিভার গিরুদকে ছাপিয়ে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠেছেন। লেস ব্লুজদের হয়ে ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচে এখন তার গোলসংখ্যা ৬০।
এর মধ্যে ১৬টি এসেছে বিশ্বাকাপে। এর মাধ্যমে জার্মানীর মিরোস্লাভ ক্লোসাকে স্পর্শ করেছেন এমবাপ্পে। ক্লোসা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড ধরে রেখেছিলেন। যা গতকাল ছাড়িয়ে গেছেন মেসি।
আগামী শুক্রবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স।
এদিকে নরওয়ের কাছে প্রথম ম্যাচে ৪-১ গোলে ইরাক গতকাল কোন প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। ৪০ বছরের ব্যবধানে বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মত খেলতে আসা ইরাক এ পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে পাঁচ ম্যাচের পাঁচটিতেই পরাজিত হলো।
ফ্রান্স তাদের উদ্বোধনী ম্যাচের একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনে মূল দল সাজিয়েছিল। লেফট উইংয়ে ডিসায়ার ডুয়ের পরিবর্তে ব্র্যাডলি বারকোলা, মিডফিল্ডে অরেলিয়েন টিচুয়ামেনির বদলে মানু কোনো এবং লেফট-ব্যাকে থিও হার্নান্দেজের পরিবর্তে লুকা দিনিয়ে সুযোগ পান।
ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটের আগেই কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলের সূচনা করেন। ডান পায়ে একটি পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ২০ মিটার দূর থেকে শক্তিশালী শট নেন, যা ইরাকের গোলরক্ষক আহমেদ বাসিল ঠেকাতে পারেননি।
অধিনায়ক আয়মেন হুসেইন ম্যাচের মাত্র ২৬ মিনিটে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলে গ্র্যাহাম আর্নল্ডের দল বড় ধাক্কা খায়।
ঝড়ো আবহাওয়ায় দুই ঘন্টা বিরতির পর খেলা পুনরায় শুরু হলে ইরাকের রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ে। একটি মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে এমবাপ্পে ৫৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করেন। ডিফেন্ডার জাইদ তাহসিন একটি গোল-কিক নেন এবং সেটি গোলরক্ষক বাসিলের কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেন।
কিন্তু বলটি ভুল দিকে চলে যায়। ডেম্বেলে বল দখল করে এমবাপ্পেকে সহজে গোল করার সুযোগ করে দেন। ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের এ্যাসিস্টে ডেম্বেলে ফ্রান্সের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন।