নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল ইংল্যান্ডের সামনে। কিন্তু ঘানার দৃঢ় রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি টমাস টুখেলের দল। বোস্টনের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত কোনো দলই জালের দেখা না পাওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে দুই পক্ষকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল ইংল্যান্ডের দখলে। আক্রমণের ধারও ছিল তাদের বেশি। তবে প্রতিবারই শেষ মুহূর্তে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘানার রক্ষণ। প্রথমার্ধে একাধিকবার প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি ইংলিশরা।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় ইংল্যান্ড। একের পর এক প্রচেষ্টায় ঘানাকে চাপে রাখলেও গোলের খাতা খোলা সম্ভব হয়নি। ম্যাচের শেষ দিকে বুকায়ো সাকার শট ফিরিয়ে দেন ঘানার গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসার। একই আক্রমণে পোস্টে লেগে ফিরে আসা বলে হ্যারি কেইন ভলি নিলেও সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ঘানাও পুরো ম্যাচে শুধুই রক্ষণে সীমাবদ্ধ ছিল না। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার ইংল্যান্ডের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। যদিও তারাও কোনো সুযোগকে গোলে পরিণত করতে পারেনি।
পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচে মোট ১৯ বার শট নিয়েছে ইংল্যান্ড, কিন্তু লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে মাত্র তিনটি। এত সুযোগ তৈরি করেও গোল না পাওয়াটা তাদের জন্য বড় হতাশার। বিশ্বকাপে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এত শট নিয়ে গোল করতে না পারার ঘটনা ইংল্যান্ডের জন্য বিরল।
এই ফলাফলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে আরেকটি গোলশূন্য ম্যাচ যোগ হলো ইংল্যান্ডের নামের পাশে। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ১৩ বার ০-০ ড্র করেছে তারা, যা অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। এই তালিকায় তাদের সবচেয়ে কাছাকাছি রয়েছে ব্রাজিল, যাদের গোলশূন্য ড্রয়ের সংখ্যা ৯।
দুই ম্যাচ শেষে ‘এল’ গ্রুপে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইংল্যান্ড। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঘানা। ফলে শেষ ম্যাচের আগে দুই দলের সামনেই নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ খোলা থাকল।