ফুটবল খেলা ইসলামে বৈধ কি না, এ প্রশ্নের জবাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি বক্তা ডা. জাকির নায়েক। তিনি বলেছেন, ফুটবল নিজেই হারাম নয়। তবে পেশাদার ফুটবলের ক্ষেত্রে শরিয়তবিরোধী কিছু বিষয় যুক্ত হলে তা ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে।
নিজের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক বক্তব্যে ডা. জাকির নায়েক বলেন, যেকোনো খেলা যদি মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখে এবং কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো কাজে প্ররোচিত না করে, তাহলে ইসলামে তা বৈধ। সেই হিসেবে ফুটবল খেলাও সাধারণভাবে হারাম নয়।
তিনি বলেন, ফুটবল যদি একজন মানুষকে সুস্থ ও ফিট থাকতে সাহায্য করে এবং এর মাধ্যমে কোনো হারাম কাজে জড়িয়ে না পড়ে, তাহলে এ খেলায় শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষেধাজ্ঞা নেই।
তবে পেশা হিসেবে ফুটবল খেলার বিষয়ে ইসলামি আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি সৌদি আরবের প্রখ্যাত আলেম শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিমের ফতোয়ার কথা তুলে ধরেন।
জাকির নায়েক জানান, শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম পেশাদার ফুটবলকে নিরুৎসাহিত করার পক্ষে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে খেলোয়াড়দের সতর রক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা, জামাতে নামাজ আদায়ে বিঘ্ন সৃষ্টি, দলাদলি ও বিরোধের পরিবেশ তৈরি, গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক সফরের সময় হারাম কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা।
তবে এ বিষয়ে আংশিক ভিন্নমত পোষণ করেন ডা. জাকির নায়েক। তিনি বলেন, শায়খের উদ্বেগগুলোর অনেকগুলো বাস্তবসম্মত হলেও সব ধরনের পেশাদার ফুটবলকে এককভাবে হারাম বলা ঠিক নয়।
তার মতে, বিশ্বকাপ বা ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগিতার মতো উচ্চপর্যায়ের পেশাদার ফুটবলে এসব আপত্তির কিছু বিষয় প্রযোজ্য হতে পারে। কিন্তু সব পর্যায়ের ফুটবলকে একই মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়।
ডা. জাকির নায়েক আরও বলেন, কোনো খেলোয়াড় যদি ইসলামের বিধান মেনে চলেন, নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন এবং হারাম কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারেন, তাহলে ফুটবল খেলা বা এটিকে পেশা হিসেবে গ্রহণের বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।