জাপানের স্বপ্নে ধাক্কা, কাসেমিরোর হেডে ম্যাচ জমিয়ে তুলল ব্রাজিল

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জাপানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্রাজিল। বিরতির পর একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ৫৬তম মিনিটে কাসেমিরোর গোলে ১-১ সমতায় ফেরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ। লুকাস পাকেতার জায়গায় মাঠে নামানো হয় তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিককে। পরিবর্তনের পর থেকেই আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয় সেলেসাও।

৫০তম মিনিটে দূর থেকে বাড়ানো বল ধরে এন্দ্রিক সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তার পাস ঠিকঠাক হয়নি। সুযোগ বুঝে এগিয়ে এসে বলটি সহজেই তালুবন্দি করেন জাপানের গোলরক্ষক সুজুকি।

দুই মিনিট পর দানিলোর ক্রস থেকে ব্রুনো গিমারায়েসের জোরালো হেড অসাধারণ ডাইভ দিয়ে ঠেকিয়ে দেন সুজুকি। এরপর ৫৫তম মিনিটে প্রায় নিশ্চিত গোল থেকে জাপানকে বাঁচান তোমিয়াসু। কাসেমিরোর কাছ থেকে নেওয়া হেড গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন তিনি। গোলমুখে তৈরি হওয়া জটলাতেও দ্বিতীয়বার বল ব্লক করে দলকে রক্ষা করেন এই ডিফেন্ডার।

তবে এক মিনিট পর আর রক্ষা হয়নি। ৫৬তম মিনিটে অবশেষে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। জাপানের রক্ষণভাগের চাপ ভেঙে কাসেমিরো গোল করে ম্যাচে ১-১ সমতা আনেন।

গোলের তিন মিনিট পর এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। বাম প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে গিয়ে তোমিয়াসুকে নাটমেগ করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এরপর বক্সের ভেতরে আরেক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষক সুজুকিকেও পরাস্ত করে শট নেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বলটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরে জাপানের রক্ষণভাগ দ্রুত বল ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত হয়।

এর আগে প্রথমার্ধের ২৯তম মিনিটে জাপানকে এগিয়ে দেন সানো। মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে লুজ বল পেয়ে কাসেমিরোকে গতিতে হারিয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান তিনি। সেই গোলেই বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল জাপান।

উল্লেখ্য, ২০১৮ ও ২০২২ সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও প্রথমে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল জাপান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি তারা। এবারও ব্রাজিলের বিপক্ষে সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির শঙ্কায় পড়েছে এশিয়ার প্রতিনিধিরা।