Tuesday, June 30, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শেষ মিনিটের গোলে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ব্রাজিল

শেষ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ০১:৩২ এএম

অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোলে ২-১ ব্যবধানে জাপানকে হারিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল ব্রাজিলের। প্রথম ২৫ মিনিটে প্রায় ৭৫ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি তারা। তৃতীয় মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। এরপর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাতেউস কুনহা ও লুকাস পাকেতার একাধিক প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয় জাপানের গোলরক্ষক সুজুকির দৃঢ়তায়।

আধিপত্যের মাঝেই হাইড্রেশন ব্রেকের পর ম্যাচের ২৯তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যায় জাপান। মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে লুজ বল পেয়ে সানো কাসেমিরোকে গতিতে পেছনে ফেলে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান। সেই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জাপান।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে বিরতির সময় পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ। লুকাস পাকেতার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিককে। এরপর থেকেই আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সেলেসাও।

৫০ মিনিটে এন্দ্রিকের পাস থেকে সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি ভিনিসিয়ুস। দুই মিনিট পর দানিলোর ক্রস থেকে ব্রুনো গিমারায়েসের জোরালো হেড দুর্দান্ত ডাইভ দিয়ে রুখে দেন সুজুকি। ৫৫ মিনিটে কাসেমিরোর হেড গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন তোমিয়াসু। রিবাউন্ডেও আরেকটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে জাপানকে বাঁচান তিনি।

তবে এক মিনিট পর আর রক্ষা হয়নি। ৫৬তম মিনিটে অবশেষে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে কাসেমিরো কাছ থেকে হেডে বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন ১-১ করেন।

গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ব্রাজিল। ৫৯ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষককেও পরাস্ত করেছিলেন। কিন্তু তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরে জাপানের রক্ষণভাগ বল ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত হয়।

৭৫ মিনিটে এন্দ্রিকের দারুণ ড্রিবলিংয়ের পর ভিনিসিয়ুসকে দেওয়া পাস থেকেও গোলের সুযোগ নষ্ট হয়। কিছুক্ষণ পর গ্যাব্রিয়েলের ক্রস থেকে রায়ানের হেড সুজুকির গায়ে লেগে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায় জাপান। শেষদিকে ভিনিসিয়ুসের আরেকটি শটও ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নার হয়।

ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হয় ছয় মিনিট। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, ঠিক তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত। ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে মাঝমাঠে তানাকার ভুলে বল পেয়ে ব্রুনো গিমারায়েস দারুণ এক থ্রু পাস বাড়ান গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির উদ্দেশে। দ্রুত বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সুজুকিকে পরাস্ত করে নিখুঁত শটে জালে বল জড়ান মার্টিনেল্লি। ৯৬তম মিনিটের সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল।

এক ঘণ্টারও বেশি সময় পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে সেলেসাও। আর শেষ মুহূর্তের হৃদয়ভাঙা পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে জাপানকে।

   

About

Popular Links

x