শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে জয় পেয়েছে স্পেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ম্যাচটিতে স্পেনের হয়ে দুটি গোল করেছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল, অন্যটি পেদ্রো পোরো।
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই যে আক্রমণের ঝড় শুরু করলো স্পেন, তা চলল একেবারে শেষ পর্যন্ত। ঘর সামলানোর শত চেষ্টা করেও, কিছু করতে পারলো না অস্ট্রিয়া। মিকেল ওইয়ারসাবালের জোড়া গোলে অনায়াস জয়ে বিশ্বকাপে পরের ধাপে পা রাখলো লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
স্পেনের প্রথম গোলের পর, বাকিটা সময় লড়াই আরও একপেশে হয়ে পড়ে।
প্রায় ৬৫% বল দখলে রেখে, গোলের জন্য ২৩টি শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখতে পারে স্পেন। অস্ট্রিয়ার পাঁচ প্রচেষ্টার একটিও ছিল না লক্ষ্যে।
২০০৬ বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের পর, প্রথম ইউরোপিয়ান দল হিসেবে প্রতিযোগিতাটির কোনো আসরে প্রথম চার ম্যাচেই জাল অক্ষত রাখতে পারল স্পেন। কেইপ ভার্দের বিপক্ষে হতাশাজনক গোলশূন্য ড্রয়ের পর, টানা তিন জয়ের পথে কোনো গোল না খেয়ে আটটি করল তারা।
ম্যাচের প্রথম মিনিটেই বাঁ পাশ দিয়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় ছুটে, ডি-বক্সের মুখে গিয়ে শট নিলেন লামিন ইয়ামাল, যদিও তার শট আটকাতে একটুও বেগ পেতে হলো না গোলরক্ষককে।
এরপর থেকে, বেশিরভাগ সময় টানা আক্রমণ করতে থাকে স্প্যানিশরা, সুযোগও তৈরি হয়; কিন্তু ঠিক সময়ে যথেষ্ট ভালো শট কেউ নিতে পারছিলেন না।
বিরতির পর ম্যাচে ফেরার সবচেয়ে বড় সুযোগটি পেয়েছিল অস্ট্রিয়া। বদলি হিসেবে নেমেই ৬১ মিনিটে সাবিটসারের নিখুঁত ক্রস থেকে প্রায় ফাঁকায় হেড করেছিলেন সাসা কালাইজিচ। কিন্তু খুব কাছ থেকে নেওয়া সেই হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। সেটিই ছিল অস্ট্রিয়ার ম্যাচে ফেরার সেরা সুযোগ।
এরপর ৬৬ মিনিটে কুকুরেয়া বল কেড়ে নিয়ে বায়েনার কাছে দেন। বায়েনার কাটব্যাক থেকে ছুটে এসে হেডে বল জালে পাঠান পেদ্রো পোরো। জাতীয় দলের হয়ে এটিই ছিল তার প্রথম গোল, আর ২-০ ব্যবধানে কার্যত ম্যাচের ভাগ্যও নিশ্চিত হয়ে যায়।
এরপরও থামেনি স্পেন। ৮৯তম মিনিটে কুকুরেয়ার নিখুঁত পাস ধরে নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ওইয়ারসাবাল, নিশ্চিত করেন ৩-০ ব্যবধানের জয়।
এই জয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে স্পেন। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে পর্তুগাল অথবা ক্রোয়েশিয়া।