চলতি বিশ্বকাপে বিতর্ক তৈরি করা আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের স্পর্শকাতর রেফারিং ও ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা ও সাবেক খ্যাতনামা ইতালিয়ান রেফারি পিয়েরলুইজি কোলিনা। ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ওই ম্যাচে ভিএআরের হস্তক্ষেপ ও গোল বাতিলের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছিল।
টানা ছয়বার বিশ্বের সেরা রেফারির খেতাব জেতা ৬৬ বছর বয়সী এই রেফারিং প্রধান জোর দিয়ে বলেন, ম্যাচ অফিশিয়ালদের সততা নিয়ে কোনো ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার সুযোগ নেই।
আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) কর্তৃক গোল বাতিলের ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনাটির স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে কোলিনা জানান, গোল হওয়ার প্রক্রিয়ায় বা 'অ্যাটাকিং পজিশন ফেজে' কোনো ফাউল থাকলে ভিএআর অন-ফিল্ড রিভিউয়ের পরামর্শ দিতে বাধ্য।
তিনি বলেন, “ঘটনাটি গোলপোস্ট থেকে কতটা দূরত্বে ঘটেছে বা কতক্ষণ আগে হয়েছে, তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে আমরা দেখেছি যে, মিসরের ১৯ নম্বর খেলোয়াড় মারওয়ান আত্তিয়া স্পষ্টভাবেই আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ে পাড়া দিয়ে বল কেড়ে নিয়েছিলেন। আমাদের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার, ফাউল মানে ফাউল। মাঠে রেফারি দেখতে না পারলেও ভিএআরের এতে হস্তক্ষেপ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।”
একই ম্যাচের শেষ দিকে মিসরের তারকা মোহাম্মদ সালাহ এবং আর্জেন্টিনার হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যকার একটি মুহূর্ত নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সেই ঘটনাকে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংঘাত হিসেবেই দেখছেন কোলিনা।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, “কোনো ডিফেন্ডার যদি আগে বলের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যান এবং এরপর প্রতিপক্ষের সঙ্গে স্বাভাবিক কোনো শারীরিক সংঘর্ষ হয়, তবে সেটিকে ফাউল ধরা হয় না। ওই ম্যাচে সালাহ ও আলভারেজের মধ্যকার ঘটনাটিকে রেফারি এবং ভিএআর উভয়েই ফুটবলের স্বাভাবিক শারীরিক সংঘাত হিসেবে সঠিকভাবে গণ্য করেছেন।”
রেফারিং নিয়ে ওঠা বিতর্ক প্রসঙ্গে ক্ষোভ ও সতর্কতা প্রকাশ করে কোলিনা বলেন, “ম্যাচের সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা ফুটবলেরই অংশ। তবে ভিত্তিহীন অভিযোগের স্থান এই খেলায় নেই। ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ অফিশিয়ালদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। এতে রেফারি ও তাদের পরিবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। এমনকি ফিফা সভাপতিও রেফারিংয়ের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করতে পারেন না। আমরা স্বাধীনভাবেই আমাদের দায়িত্ব পালন করছি।”
একই সঙ্গে কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এ বছর ৫০ শতাংশ বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে ম্যাচ অফিশিয়ালদের সার্বিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ফিফার রেফারিং প্রধান।