৪৮ দলের বিশাল মহাযজ্ঞ শেষে ফুটবল বিশ্বকাপ এখন রূপ নিয়েছে সেরা ৮ দলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে। একদিনের বিরতি শেষে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকেই মাঠে গড়াচ্ছে শেষ আটের মেগা লড়াই। তবে সেমিফাইনালে ওঠার এই মহা-গুরুত্বপূর্ণ মহারণে নামার আগে বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছে অংশ নেওয়া দলগুলো। কারণ, শেষ আটের লড়াইয়ে আরও একটি হলুদ কার্ড দেখলেই নিজ দল শেষ চারে জায়গা করে নিলেও এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়ে সেমিফাইনালে দর্শক হয়ে বসে থাকতে হবে অন্তত ১৮ জন তারকা ফুটবলারকে।
ঝুঁকিতে থাকা খেলোয়াড়দের এই তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তিগুলো।
১৮ ফুটবলারের তালিকায় সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে ইংল্যান্ড ও মরক্কো। নকআউট রাউন্ডে (শেষ ৩২ ও শেষ ষোলো) দল দুটির চারজন করে মোট আটজন খেলোয়াড় ইতোমধ্যে একটি করে হলুদ কার্ড দেখেছেন।
ইংল্যান্ডের হয়ে জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস ও মার্ক গেয়ি কোয়ার্টার ফাইনালে আরেকটি কার্ড দেখলেই সেমিফাইনাল মিস করবেন। একই আশঙ্কায় দিন গুনছেন মরক্কোর তারকা আশরাফ হাকিমি, ইসা দিওপ, রেদোয়ান হালহাল এবং বিলাল এল খানুস।
এছাড়া ফ্রান্সের তিন তারকা, মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে ও ব্রাডলি বারকোলা এবং সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া ও মিরো মুহাইমের মাথার ওপরও ঝুলছে কার্ডের খাঁড়া। আর্জেন্টিনা, স্পেন, বেলজিয়াম ও নরওয়ের একজন করে ফুটবলার রয়েছেন এই তালিকায়। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার গঞ্জালো মন্টিয়েল ও স্পেনের ফেররান তোরেসকেও শেষ আটে সাবধানে পা ফেলতে হবে।
৪৮ দলের বিশাল এই বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে একটি বাড়তি রাউন্ড (শেষ ৩২) যোগ হওয়ায় ফুটবলারদের ওপর কার্ডজনিত শাস্তির ঝুঁকি এড়াতে কার্ড নীতিতে পরিবর্তন এনেছে ফিফা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্ব শেষে ফুটবলারদের আগের সব হলুদ কার্ড বাতিল বা ‘রিসেট’ হয়ে যায়।
নিয়মানুযায়ী, নকআউট পর্বের ভিন্ন দুই ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখলে পরবর্তী এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়। ফলে যারা শেষ ৩২ বা শেষ ষোলোয় একটি কার্ড দেখেছেন, তারা কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বিতীয় কার্ড দেখলে সেমিফাইনালে নিষিদ্ধ হবেন।
তবে স্বস্তির খবর হলো, কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার পর আবারও হলুদ কার্ডের হিসাব বাতিল হয়ে যাবে। ফলে কার্ডের কারণে ফাইনালে নিষিদ্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। কেবল সেমিফাইনালে কেউ সরাসরি বা দুটি হলুদ কার্ডে লাল কার্ড পেলে ফাইনালে খেলতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, ৯ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত চলবে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। এরপর ১৪ ও ১৫ জুলাই সেমিফাইনাল, ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এবং ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের জমকালো ফাইনাল।



