Wednesday, July 08, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিতে কারচুপির অভিযোগ, বিস্ফোরক মন্তব্য মিশরের কোচের

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে - গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত - ব্যবধানে হেরেছে মিশর

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে - গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত - ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে মিশর। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে রেফারিং ভিএআর এর কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। ম্যাচ শেষে মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান সরাসরি অভিযোগ করেছেন, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতেই ম্যাচে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে হোসাম হাসান বলেন, "আমি এটিকে দুর্ভাগ্য বলে এড়িয়ে যেতে চাই না। আজ আমাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমরা প্রতারণার শিকার হয়েছি।"

তিনি আরও বলেন, "এটি স্পষ্টতই একটি পাতানো ম্যাচ ছিল এবং পুরো বিশ্ব তা দেখেছে। যদি আগেই ঠিক করা থাকে যে আর্জেন্টিনাই জিতবে, তাহলে অন্য দলগুলোকে এই প্রতিযোগিতায় ডাকারই বা প্রয়োজন কী?"

হাসানের দাবি, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টে ধরে রাখতে এবং মেসিকে লড়াইয়ে রাখতেই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে গেছে। তার ভাষায়, "ফুটবলে কখনও কখনও এমন কিছু বাহ্যিক বিষয় কাজ করে, যা মাঠের খেলার চেয়েও বড় হয়ে ওঠে।"

মিশরের সবচেয়ে বড় অভিযোগ, মোস্তফা জিকোর করা একটি দৃষ্টিনন্দন গোল ভিএআর এর মাধ্যমে বাতিল করা হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণ শুরুর সময় মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেসের জার্সি টেনেছিলেন এবং সামান্য সংস্পর্শ হয়েছিল। সেই ঘটনাকেই ফাউল হিসেবে ধরে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।

যদিও বিশ্লেষক অ্যালি ম্যাককোইস্ট মনে করেন, নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। তবে মিশরীয় শিবির অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মতে, ঘটনাটি ছিল খুবই সামান্য এবং গোলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিতও ছিল না।

ইংলিশ সাংবাদিক হেনরি উইন্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ করে লেখেন, "ভিএআর যদি আরও পেছনে যেত, তাহলে হয়তো তুতেনখামেনকেও এই আক্রমণের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলত।" তার মতে, গোলটি বাতিল না হলে এটি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হতে পারত।

অন্যদিকে বিবিসির সাংবাদিক ডেল জনসনও সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করে বলেন, “টুর্নামেন্টজুড়ে যেসব সংস্পর্শে ফাউল দেওয়া হয়নি, সেখানে এমন সামান্য জার্সি টানার ঘটনায় ভিএআর ব্যবহার করে গোল বাতিল করা রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।“

ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করেন মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। তিনি বলেন, "আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে এমন কিছু ঘটেছে, যা সবার চোখের সামনেই ছিল। রেফারি পুরো একটি জাতির পরিশ্রম কেড়ে নিয়েছেন।"

তিনি আরও বলেন, "আর্জেন্টিনা যদি নিজেদের যোগ্যতায় জিতত, তাহলে সেটা মেনে নেওয়া সহজ হতো। কিন্তু এত বিতর্কের পর এই হার মেনে নেওয়া খুব কঠিন।"

   

About

Popular Links

x