কাতার বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়টি উৎসর্গ করেছিলেন ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশ্যে। ম্যাচ শেষে বুক চিতিয়ে হাতে তুলে নিয়েছিলেন ফিলিস্তিনের পতাকাও। এবার শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ মঞ্চে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে আবারও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে আবেগঘন ও বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়েছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান।
সোমবার (৬ জুলাই) ম্যাচ পূর্ববর্তী অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রণকৌশল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হঠাৎই ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ তোলেন হাসান। ফুটবলীয় আলোচনার বৃত্ত ভেঙে টানা চার মিনিটেরও বেশি সময় ধরে তিনি ফিলিস্তিনিদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও মানবিক বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরেন। তার বক্তব্য শেষ হতেই উপস্থিত দেশী-বিদেশী সাংবাদিকরা করতালির মাধ্যমে এই সাহসী অবস্থানকে সমর্থন জানান।
ইসরায়েলের হামলায় গাজায় চলমান মানবিক সংকটের তীব্র নিন্দা জানিয়ে হোসাম হাসান বলেন, “পৃথিবীতে যদি এমন কেউ থাকে, যে ফিলিস্তিনিদের জন্য কষ্ট অনুভব করে না, তাহলে সে মানুষই নয়। সে আরব, ইউরোপীয় কিংবা আমেরিকান যেই হোক না কেন। কোনো সাধারণ প্রাণীর ওপর নির্যাতন হলেও বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ হয়। অথচ গাজায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু যেন এখন এক স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে!”
অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারানোর পর কেন ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উদযাপনে মেতেছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মিসর কোচ বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক স্টান্ট ছিল না, এটি ছিল সম্পূর্ণ মানবিক একটি প্রতিক্রিয়া। আমি আরব হওয়ার আগে একজন মানুষ। ফুটবলের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে আমার বার্তা একটাই। ফিফা যেমন মাঠের ভেতর পারস্পরিক সম্মানের কথা বলে, তেমনি মাঠের বাইরেও ফিলিস্তিনি মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারকে সম্মান করা হোক।”
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে মিসর। এই ম্যাচ জিতলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে পা রাখবে আফ্রিকার দেশটি।
প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি হলেও মাঠের লড়াইয়ের আগে তাদের বিন্দুমাত্র ভয় পাচ্ছেন না বলে হুঙ্কার দিয়েছেন হোসাম হাসান। নিজের দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এই কোচ বলেন, “আমরা খুব ভালো করেই জানি যে আমরা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা তাদের ভয় পাই না। আমাদের স্বপ্নের কোনো সীমা নেই, উচ্চাকাঙ্ক্ষারও শেষ নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা এখানে কোনো ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে আসিনি। আমরা ৭ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো একটি সমৃদ্ধ সভ্যতার প্রতিনিধিত্ব করছি। আজ মাঠে মিসর, সমগ্র আরব বিশ্ব এবং আফ্রিকার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেব।”



