নতুন নতুন রূপে ফিরে আসছেন ব্রাজিল সমর্থকরা

বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ আসা মানেই উন্মাদনার চরম শিখর। যদিও টুর্নামেন্টে জাতীয় দল খেলে না, তবু পুরো দেশ যেন নিমিষেই দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়, নীল-সাদা (আর্জেন্টিনা) এবং হলুদ-সবুজ (ব্রাজিল)। বাড়ির ছাদে কার কত বড় পতাকা উড়বে, তা নিয়ে চলে তুমুল প্রতিযোগিতা। তবে এই ভালোবাসার আড়ালেই লুকিয়ে থাকে তীব্র ভার্চ্যুয়াল ও সামাজিক দ্বৈরথ।

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর ফুটবলবোদ্ধারা ভেবেছিলেন, হয়তো এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাজিল ভক্তদের তৎপরতা খানিকটা ঝিমিয়ে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র! চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে পরাস্ত দেখতে যেন গিরগিটির মতো দ্রুত রং বদলানোর নতুন ও অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছেন ব্রাজিলীয় সমর্থকেরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের খোঁচা দিতে এবং প্রতিটি ম্যাচে দলটিকে চাপ মুক্ত না রাখার লক্ষ্যে ব্রাজিলের সমর্থকেরা নিত্যনতুন রূপ ধারণ করছেন। আর্জেন্টিনার প্রতিটি প্রতিপক্ষ দলই যেন মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হচ্ছে তাদের 'নতুন নিজ দল'-এ!

গ্রুপ পর্ব ও নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা যখন কেপভার্দে, আলজেরিয়া কিংবা মিসরের মুখোমুখি হয়েছে, তখন অনলাইনে ব্রাজিল সমর্থকদের রাতারাতি কেপভার্দে/মিসরীয় ফ্যান সেজে উল্লাস করতে দেখা গেছে। ফেসবুক ও টিকটকে রাতারাতি বদলে গেছে কভার ফটো আর প্রোফাইল পিকচার।

এখন সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি শক্তিশালী ইংল্যান্ড। আর অমনি নেটদুনিয়ায় ব্রাজিল সমর্থকদের দেখা মিলছে থ্রি-লায়নসদের থিম সং আর জর্জেস ক্রসের ইংলিশ পতাকার আড়ালে!

ব্রাজিল ভক্তদের এই ঘন ঘন রূপ বদলানো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন বইছে ট্রলের বন্যা। আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা ক্ষোভ ও রসিকতার মিশ্রণে বলছেন, “ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও তাদের সমর্থকেরা প্রতিদিন নতুন নতুন পাসপোর্ট বানিয়ে ফিরে আসছে!”

অনলাইনে এই ধরনের ট্রলিং দেখতে কৌতুকপূর্ণ ও বিনোদনমূলক মনে হলেও, এর একটি অন্ধকার দিকও রয়েছে। ভার্চ্যুয়াল এই খোঁচাখুঁচি পাড়া-মহল্লায় অনেক সময় গড়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠীর এই ট্রলিং কিংবা ‘বহুরূপী’ সেজে প্রতিপক্ষকে খোঁচানো যতক্ষণ শুধুই সুস্থ রসিকতার ভেতর সীমাবদ্ধ থাকে, ততক্ষণ তা উৎসবেরই অংশ। কিন্তু সেই ট্রল যখন ব্যক্তিগত আক্রমণ বা সহিংসতার উসকানি দেয়, তখন ফুটবল তার আসল সৌন্দর্য হারায়। তাই আগামী সেমিফাইনালকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে এই সুস্থ বিনোদন যেন সহিংসতার দিকে না মোড় নেয়, এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমীদের।