২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ও লামিন ইয়ামালের স্পেনের মহারণ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। সেই উন্মাদনার প্রভাব পড়েছে টিকিটের বাজারেও। রিসেল মার্কেটে ফাইনালের টিকিটের দাম পৌঁছেছে রেকর্ড উচ্চতায়। একটি টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য উঠেছে ৪৩ হাজার ৪৯১ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৩ লাখ টাকার সমান।
আগামী রবিবার অনুষ্ঠিতব্য এই মহারণের জন্য সেকেন্ডারি টিকিট মার্কেটে সবচেয়ে কম দামের টিকিটও বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭ হাজার ৮৬৮ মার্কিন ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ৮ লাখ টাকায়।
তবে এই দামের সঙ্গে বিমান ভাড়া, হোটেল, স্থানীয় যাতায়াত কিংবা খাবারের খরচ যুক্ত নয়। ফলে বিদেশ থেকে খেলা দেখতে যাওয়া একজন সমর্থকের মোট ব্যয় আরও অনেক বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের লড়াইয়ের টিকিটের দাম তুলনামূলক অনেক কম। বর্তমানে সেই ম্যাচের সবচেয়ে সস্তা টিকিট পাওয়া যাচ্ছে ৭৬৭ মার্কিন ডলারে, যা কয়েক ঘণ্টা আগেও ছিল প্রায় ১ হাজার ৯০০ ডলার।
এ ছাড়া মিয়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের জন্য স্টেডিয়ামের কাছাকাছি একটি সরকারি পার্কিং স্পটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০ মার্কিন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, টিকিটের এই আকাশছোঁয়া দামের পেছনে বড় কারণ হলো ফাইনাল ঘিরে তুমুল চাহিদা। এর পাশাপাশি ফিফার ডায়নামিক (ভ্যারিয়েবল) প্রাইসিং নীতিও মূল্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গত বছরের অক্টোবরে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সময়ই ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট ইতিহাসের সর্বোচ্চ মূল্যে ছাড়া হয়েছিল। পরে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে দামও বাড়ানো হয়।
অনেকের ধারণা, এটি হতে পারে আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। তাই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সমর্থকেরা যেকোনো মূল্যে স্টেডিয়ামে বসে ম্যাচটি দেখতে চাইছেন। অন্যদিকে স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামালের উপস্থিতিও এই ফাইনালের আকর্ষণ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এখন অপেক্ষা শুধু মাঠের লড়াইয়ের। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়বেন মেসি, নাকি ইয়ামালের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের স্পেন উড়াবে বিজয়ের পতাকা সেই উত্তর মিলবে ফাইনালের বাঁশি বাজলেই।