দীর্ঘ ৪০ দিনের বিশ্বকাপের পর্দা নামবে আগামী ১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে এবার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা। ফাইনাল শেষে মাঠের আসল ঘাসের অংশবিশেষ সংরক্ষণ করে স্মারক হিসেবে বিক্রির পরিকল্পনা করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ থেকে ফিফার আয় হতে পারে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকার সমান।
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি তুলেছে নিউ জার্সি প্রশাসন। গভর্নর মিকি শেরিলের কার্যালয়ের দাবি, মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মাঠ প্রস্তুতের বড় অংশের ব্যয় বহন করেছে নিউ জার্সি। তাই মাঠের ঘাস বিক্রি করে ফিফা যে অর্থ আয় করবে, তার একটি অংশ রাজ্যেরও প্রাপ্য। গভর্নরের মুখপাত্র শন হিগিন্স বলেন, করদাতাদের অর্থ দিয়ে মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে সেই ঘাস বিক্রি করে যদি কোটি কোটি ডলার আয় হয়, তাহলে নিউ জার্সিরও সেই আয়ের অংশ পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
ফিফা বিভিন্ন মূল্যের প্যাকেজে মাঠের ঘাস বিক্রি করবে। সবচেয়ে কম দামের প্যাকেজ ৪৫০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৫৫ হাজার টাকা)। এছাড়া ৯০০ ডলার (প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা) এবং ১,২০০ ডলার (প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা) মূল্যের প্যাকেজও থাকবে। এসব প্যাকেজে ২.৫ ইঞ্চি × ২.৫ ইঞ্চি আকারের আসল মাঠের ঘাস সংরক্ষিত থাকবে।
এ ছাড়া ৩ হাজার মার্কিন ডলারের (প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা) একটি প্রিমিয়াম প্যাকেজও রাখা হয়েছে। এতে থাকবে ৩×৩ ইঞ্চি আকারের মাঠের আসল ঘাসের অংশ, সোনালি খোদাই করা ধাতব স্মারক টিকিট, বিশ্বকাপ ফাইনালের বলের একটি ক্ষুদ্র প্রতিরূপ এবং স্ফটিক কাঁচে তৈরি বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিরূপ।
তবে বিভিন্ন মূল্যের প্যাকেজের ঘাসের উৎস বা বিশেষত্ব কী হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি ফিফা। ধারণা করা হচ্ছে, পেনাল্টি স্পট, সেন্টার সার্কেল কিংবা গোলমুখের ঘাসের টুকরোর মূল্য তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামবে আর্জেন্টিনা, আর তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালদের স্পেন চাইবে নতুন ইতিহাস গড়তে। মহারণ শুরুর আগেই মাঠের ঘাস বিক্রির এই পরিকল্পনা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।



