বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর মালভিনাস (ফকল্যান্ড) দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দাবি-সংবলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করায় আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলেছে যুক্তরাজ্য।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর উদ্যাপনের সময় ‘দ্য মালভিনাস আর আর্জেন্টাইন’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিফার কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিমন্ত্রী পিটার কাইল বলেন, “খেলোয়াড়দের এই পদক্ষেপ ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত’ ছিল। আমি আশা করি ফিফা বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে। বিশ্বকাপের অন্যতম মৌলিক নীতি হলো রাজনীতিকে ফুটবল থেকে আলাদা রাখা।”
তিনি মনে করেন, ফুটবলকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ব্যানারটি প্রদর্শন করে তাদের অবস্থানকে সমর্থন করেন। ব্যানারে দক্ষিণ আটলান্টিকের দ্বীপপুঞ্জ মালভিনাসের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি তুলে ধরা হয়।
তবে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ভিন্ন কথা বলেছেন। ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের সঙ্গে মালভিনাস ইস্যুকে যুক্ত করা উচিত নয়।”
২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই ধরনের ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ ব্যানার প্রদর্শন করায় আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২০,০০০ পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা।
সেসময় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানায়, ওই কর্মকাণ্ড ফুটবলে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন এবং দলীয় আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল।
উল্লেখ্য, দুই দেশের সমর্থকদের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে সেমিফাইনাল ম্যাচটিকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ও ফিফা আটলান্টার স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক বার্তাবাহী পতাকা বা ব্যানার বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।