জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচ খেলতে যাওয়ার পথে রাজশাহী বিভাগীয় দলের চার সদস্যের আটটি লাগেজ চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরে রাজশাহী জেলা পুলিশ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিরাপত্তা বিভাগের তৎপরতায় অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সব মালামাল এখনো উদ্ধার হয়নি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে কভার্ড ভ্যান থেকে স্পিনিং অলরাউন্ডার এসএম মেহেরব হাসান, পেসার মোহর শেখ অন্তর, পেসার আলি মোহাম্মদ ওয়ালিদ ও টিম বয় আব্দুল কাদেরের আটটি লাগেজ চুরি হয়।
ওই দিন বিমানযোগে রাজশাহীতে যান দলের ক্রিকেটাররা। তাদের মালামালসহ ৫৪টি লাগেজ কভার্ড ভ্যানে করে পাঠানো হয়। রাজশাহীতে পৌঁছানোর পর ভ্যান খুলে আটটি লাগেজ খোয়া যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন তারা। পরে মেহেরব রাজপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ অভিযোগের তথ্যের বরাতে জানান, ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে পুঠিয়া এলাকার একটি হোটেলে খাবারের বিরতি দেন কভার্ড ভ্যানের চালক। পুনরায় যাত্রা শুরুর আগে ভ্যানের পেছনের দরজা খোলা দেখতে পান তিনি। দরজা বন্ধ করে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দেন চালক। পরে গন্তব্যে পৌঁছে মালামাল খোয়া যাওয়ার বিষয়টি জানা যায়।
জিডিতে মেহেরব উল্লেখ করেন, চুরি হওয়া লাগেজে ব্যবহৃত জামাকাপড়ের পাশাপাশি তার পাসপোর্ট, একটি আইফোন, নগদ তিন লাখ টাকা, ৩০০ ডলার ও কিছু ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ছিল। মোহরের লাগেজেও মূল্যবান ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। আর আব্দুল কাদেরের ব্যাগে স্পাইকসহ খেলার সরঞ্জাম ছিল।
ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, রাজপাড়া থানায় জিডি হলেও ঘটনাটি পুঠিয়ায় ঘটায় রাজশাহী ও নাটোর জেলা পুলিশ বিষয়টি দেখভাল করছে। পরে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে উদ্ধার হওয়া মালামাল ভুক্তভোগীদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
রাজশাহী দলের ম্যানেজার তৌকির মালামাল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "লাগেজ হারানোর ব্যাপারে জানামাত্রই আমরা পুলিশ ও বিসিবিকে অবহিত করি। তাদের তৎপরতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে মালামাল পাওয়া গেছে।"
তবে চুরি হওয়া সব মালামাল উদ্ধার হয়নি। এ বিষয়ে মোহর শেখ জানান, অন্যদের লাগেজের প্রায় সব জিনিস পাওয়া গেলেও তার লাগেজটি এখনো উদ্ধার হয়নি। মেহেরবের লাগেজে থাকা নগদ তিন লাখ টাকা উদ্ধারের বিষয়েও কোনো ইতিবাচক খবর পাওয়া যায়নি।
চুরির সঙ্গে জড়িত চারজনের মধ্যে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। বাকি মালামাল উদ্ধারের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা রয়েছে মোহর ও মেহেরবদের। সেখানে বাকি জিনিসপত্র উদ্ধারের আশা করছেন তারা।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে আগামী রবিবার রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বরিশালের মুখোমুখি হবে রাজশাহী।