মাত্র ১৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক তার, ১৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপে আবির্ভাব এবং জাদুর ছোঁয়ায় বিশ্ব ফুটবলকে বিস্ময়ে ভাসান পেলে। তার নায়কোচিত পারফরম্যান্সেই ১৯৫৮ সালে সুইডেনের ওই আসরে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ব্রাজিল। তার তিন বছর পর ব্রাজিল সরকার পেলেকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ঘোষণা করে। ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালেও দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতেন তিনি।
তবে পেলের এত কীর্তিগাথা নাও দেখতে পারতেন ফুটবলপ্রেমীরা। ছোটবেলায় যে ফুটবলার না, পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিলেও হয়ত শৈশব থেকেই আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতেন পেলে। কিন্তু ছোটবেলায় নিজের চোখে দেখা এক দুর্ঘটনা তার জীবনের লক্ষ্যটাই বদলে দেয়।
আর্থিক অনটনে ভোগা পরিবারকে সাহায্য করতে বাদাম বিক্রি করতেন পেলে। এ কারণে বাউরুর বিমানবন্দরে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেখানে প্রতিটি বিমানকে আকাশে উড়তে থাকা দেখার মাধ্যমেই ধীরে ধীরে পেলের মনে পাইলট হওয়ার স্বপ্নটা দানা বাঁধে।
কিন্তু চল্লিশের দশকে একটি গ্লাইডার বিমান দুর্ঘটনা ও সেখানে একজনের নিহত হওয়ার ঘটনায় পেলের পাইলট হওয়ার সেই স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। ময়নাতদন্তে একজনের বিচ্ছিন্ন হাত এবং ফোঁটায় ফোটায় রক্ত দেখে পাইলট হওয়ার ইচ্ছে বিসর্জন দেন তিনি।
পরবর্তীতে একবার সাক্ষাৎকারেও নিজের পাইলট হওয়ার ইচ্ছের কথা জানিয়েছিলেন পেলে। সদ্য প্রয়াত ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি, সত্যি কথা বলতে আমার তখন ৯ বছর বয়স। আমি তখন পাইলট হতে চাইতাম। এটা আমার স্বপ্ন ছিল। আমি উড়তে চাইতাম।
ভাগ্যিস পেলের ছোটবেলার পাইলট হওয়ার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। কারণ পরবর্তীতে ফুটবলে পা রেখেছিলেন পেলে। পাইলট হলে হয়ত এমন জনপ্রিয় একজন কিংবদন্তিকে উপহার হিসেবে পেতো না ফুটবল।