পেলের পেনাল্টি কিক ঠেকানো গোলকিপারদের মধ্যে তিনিই এখনও জীবিত

পেনাল্টি রুখে দেওয়াটা যেকোনো গোলরক্ষকের জন্যই বড় কৃতিত্বের ব্যাপার। আর সেটি যদি হয় ফুটবলের সর্বকালের সেরা কোনো ফুটবলারের, তাহলে তো সেটি আরও বড় গৌরবের ব্যাপার। তাই বলে পেনাল্টি বাঁচানোর পর কোনো গোলরকক্ষককে স্মৃতি হিসেবে বল রেখে দিতে দেখা যায় না।

তবে সেবাস্তিও লুইস লরেন্সো কিন্তু ঠিকই ১৯৭১ সালে ঠেকানো একটি পেনাল্টির স্মৃতি হিসেবে ব্যবহৃত বলটি রেখে দিয়েছেন। পেনাল্টিটা যে যেনতেন কোনো খেলোয়াড়ের ছিল না, ছিল ফুটবলের রাজা খ্যাত পেলের। সেই থেকে গত ৫১ বছর ধরে বলটিকে পরম যত্নের সঙ্গে আগলে রেখেছেন লরেন্সো।

পেশাদার ক্যারিয়ারে ক্লাব ফুটবলের প্রায় পুরোটাই সান্তোসে কাটিয়ে দিয়েছিলেন পেলে। সান্তোসের হয়ে খেলা অবস্থাতেই ১৯৭১ সালে ব্রাজিলিয়ান শীর্ষ লিগের এক ম্যাচে পেলের নেওয়া পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন সাও বেন্তোর গোলবারে দাঁড়ানো সেবাস্তিও লুইস লরেন্সো।

পেলে ততদিনে ব্রাজিলের হয়ে তিন বিশ্বকাপ জিতে জীবন্ত কিংবদন্তি। সেই মহাতারকার পেনাল্টি রুখে দেওয়াটা সেবাস্তিও লুইস লরেন্সোর কাছে ছিল বিশেষ কিছু। তাই তো আজও ওই ম্যাচের বলটি নিজের সংগ্রহে রেখে দিয়েছেন ৮১ বছর বয়সী এই সাবেক গোলরক্ষক।

সেবাস্তিও লুইস লরেন্সো বাস্তব জীবনে বয়সের দিক দিয়ে পেলের চেয়ে এক বছরের ছোট। দুজনই মাত্র ১৫ বছর বয়সে ফুটবল খেলা শুরু করেন। খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের দিক দিয়ে যদিও পেলের ধারেকাছেও ছিলেন না এই গোলরক্ষক। তবে পেলের কল্যাণেই হয়ত আজও মানুষের মুখে তার নাম ফেরে।

পেলের পেনাল্টি ঠেকানোর সেই স্মরণীয় অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে সেবাস্তিও লুইস লরেন্সো বলেন, আমার সৌভাগ্য যে আমি পেলের পেনাল্টি ঠেকিয়েছিলাম। এই সুখ আমার সঙ্গে আছে। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, যেসব গোলরক্ষকের পেলের পেনাল্টি ঠেকানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের মধ্যে সর্বশেষ জীবিত ব্যক্তি তিনি।