আর্লিং হাল্যান্ড বিগত কয়েক মৌসুম ধরেই প্রতিপক্ষের জন্য বেশ ভয়ংকর একটি নাম। গোলমুখের সামনে ক্ষিপ্রতা, পজিশনিং সেন্স এবং নিখুঁত ফিনিশিং- সবকিছুর সমন্বয়ে এই ফরোয়ার্ড হয় উঠেছেন প্রতিপক্ষের দুশ্চিন্তা আর মাথাব্যথার কারণ। গত গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে আর্লিং হাল্যান্ডকে দলে ভেড়ায় ম্যানচেস্টার সিটি।
মলদে, রেড বুল সালজবার্গ, বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ঘুরে ইংলিশ ক্লাবটির হয়েও হাল্যান্ড একই রকম দুর্বার। ম্যানসিটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই গোলের ফোয়ারা ছুটিয়ে এ নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার মেতে উঠেছেন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলায়। রবিবার (৩০ এপ্রিল) প্রিমিয়ার লিগে ফুলহামের বিপক্ষে ম্যাচের মাধ্যমেই যেমন ৯৩ বছরের পুরোনো কীর্তির পুনরাবৃত্তি করলেন তিনি।
ফুলহামের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ঘড়ির কাঁটা দুই মিনিট না পেরোতেই পেনাল্টি পায় ম্যানচেস্টার সিটি। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজকে অবৈধভাবে বাধা দিলে ম্যানসিটির পক্ষে পেনাল্টির পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ১২ গজ দূর থেকে নেওয়া স্পটকিকে লক্ষ্যভেদ করতে হাল্যান্ডের ভুল হয়নি।
আর্সেনালের বিপক্ষে করা গোলের মাধ্যমে চলমান মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ৩৪টি গোল করে ফেলেছেন হাল্যান্ড। আর্সেনালের বিপক্ষে আগের ম্যাচেই ৩৮ ম্যাচের প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়ার পর প্রতিযোগিতার আরও এক রেকর্ড ছুঁয়ে ফেললেন।
১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের হয়ে অ্যান্ডি কোল এবং ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের হয়ে অ্যালান শিয়ারার ৩৪ গোল করেন, যা কোনো খেলোয়াড়ের পক্ষে প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। তখন অবশ্য মৌসুমে ৪২ ম্যাচ খেলা হতো। হাল্যান্ড যে অতিমানবীয় ফর্মে আছেন, তাতে সেই রেকর্ড তো ভাঙবেই, বরং তা কোথায় গিয়ে থামে সেটিই বলা দুষ্কর।
ফুলহামের বিপক্ষে গোলের মাধ্যমে ২০২২-২৩ মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৫০ গোল করেছেন আর্লিং হাল্যান্ড। নরওয়েজিয়ান এ স্ট্রাইকারের আগে একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে ইংলিশ ফুটবলের প্রথম বিভাগের লিগের কোনো ফুটবলার গোলের অর্ধশতক পূর্ণ করেছিলেন ৯৩ বছর আগে। ১৯৩০-৩১ মৌসুমে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে টম ওয়ারিং সর্বশেষ এ কীর্তি গড়েছিলেন।
আর্লিং হাল্যান্ডের সামনে এখন ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের খেলোয়াড় হিসেবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের হাতছানি রয়েছে। বর্তমানে রেকর্ডটি রয়েছে ডিক্সি ডিনের দখলে। ১৯২৭-২৮ মৌসুমে ৬৩ গোল করেছিলেন এই এভারটন কিংবদন্তি।
চলমান মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগে ৩৪টি, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১২টি, লিগ কাপে ৩টি ও এফএ কাপে একটি গোল করেছেন হাল্যান্ড। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এ মৌসুমে কমপক্ষে আরও ৯টি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ আছে এ ফরোয়ার্ডের। রিয়াল মাদ্রিদেন বাধা টপকে ম্যানচেস্টার সিটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পা রাখলে সেটি বেড়ে দাঁড়াবে দশে। তুখোড় গোলশিকারি হাল্যান্ড মৌসুমশেষে নিজের গোলসংখ্যা কততে নিয়ে থামেন, সেটিই এখন দেখার।