আর্লিং হাল্যান্ড বিগত কয়েক মৌসুম ধরেই প্রতিপক্ষের জন্য বেশ ভয়ংকর একটি নাম। গোলমুখের সামনে ক্ষিপ্রতা, পজিশনিং সেন্স এবং নিখুঁত ফিনিশিং- সবকিছুর সমন্বয়ে এই ফরোয়ার্ড হয় উঠেছেন প্রতিপক্ষের দুশ্চিন্তা আর মাথাব্যথার কারণ। গত গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে আর্লিং হাল্যান্ডকে দলে ভেড়ায় ম্যানচেস্টার সিটি।
মলদে, রেড বুল সালজবার্গ, বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ঘুরে ইংলিশ ক্লাবটির হয়েও হাল্যান্ড একই রকম দুর্বার। ম্যানসিটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই গোলের ফোয়ারা ছুটিয়ে এ নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার মেতে উঠেছেন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলায়। ইতোমধ্যেই ইংলিশ ফুটবলের দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকা অনেক রেকর্ডই ভেঙে নিজের নামে করে নিয়েছেন ২২ বছর বয়সী এ ফরোয়ার্ড।
বুধবার (৩ মে) প্রিমিয়ার লিগে ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার সিটির ৩-১ ব্যবধানে জয়ের পথে দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোল করেন হাল্যান্ড, যা ছিল ২০২২-২৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে এ নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের ৩৫তম গোল। এর মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়লেন হাল্যান্ড।
প্রিমিয়ার লিগের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি এতদিন ভাগাভাগি করছিলেন অ্যান্ডি কোল এবং অ্যালান শিয়ারার। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের হয়ে কোল এবং ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের হয়ে শিয়ারার ৩৪ গোল করে এ রেকর্ড গড়েন। ২২ দলের অংশগ্রহণে প্রিমিয়ার লিগে তখন অবশ্য মৌসুমে ৪২ ম্যাচ খেলা হতো। কোল এবং শিয়ারারের রেকর্ড হাল্যান্ড গুঁড়িয়ে দিয়েছেন ৩১ ম্যাচ খেলেই।
আর্লিং হাল্যান্ডের সামনে অ্যান্ডি কোল এবং অ্যালান শিয়ারারের আরও একটি রেকর্ড ভাঙার সুযোগ। প্রিমিয়ার লিগের এক মৌসুমের সর্বোচ্চ গোল করার পাশাপাশি গোলে অবদান রাখার দিক থেকেও সবার ওপরে এ দুই কিংবদন্তি স্ট্রাইকার। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের হয়ে কোল এবং ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের হয়ে শিয়ারার নিজে ৩৪ গোল করার সঙ্গে সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে ১৩টি গোল করিয়ে মোট ৪৭টি গোলে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
চলমান ২০২২-২৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত ৩৪ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের ৭টি গোলে সরাসরি উৎস হিসেবে কাজ করে মোট ৪২টি গোলে অবদান রেখেছেন হাল্যান্ড। শিয়ারার-কোলের দীর্ঘ দুই দশকের পুরোনো রেকর্ডটি নিজের করে নিতে হাতে থাকা পাঁচটি ম্যাচে ম্যানসিটি স্ট্রাইকারকে ৬টি গোলে অবদান রাখতে হবে। যদিও শিয়ারার-কোলের প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলে অবদান রাখার রেকর্ডটি কেড়ে নিতে আরও তিনজনকে ছাড়িয়ে যেতে হবে হাল্যান্ডকে। তারা হচ্ছেন- থিয়েরি হেনরি, লুইস সুয়ারেজ এবং মোহামেদ সালাহ।
২০০২-০৩ মৌসুমে আর্সেনালের জার্সিতে ২৪ গোল করে এবং ২০টি গোল করিয়ে সরাসরি ৪৪টি গোলে অবদান রেখেছিলেন হেনরি। ২০১৩-১৪ মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে ৩১ গোল করে এবং সতীর্থদের ১২টি গোলে অবদান রেখে ৪৩টি গোলে সরাসরি যুক্ত ছিলেন সুয়ারেজ। পরবর্তীতে অলরেডদের হয়েই নিজের অভিষেক অর্থাৎ ২০১৭-১৮ মৌসুমে ৩২ গোল এবং ১০ অ্যাসিস্টের মাধ্যমে ৪২টি গোলে অবদান রেখেছিলেন সালাহ। শিয়ারার-কোলের রেকর্ডটা ৪২ ম্যাচের সময়কালের হলেও হেনরি, সুয়ারেজ এবং সালাহর কীর্তি ছিল ৩৮ ম্যাচের মৌসুমেই।
২০২২-২৩ মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৫১ গোল করেছেন আর্লিং হাল্যান্ড। এর মধ্যে তিনি প্রিমিয়ার লিগে ৩৪টি, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১২টি, লিগ কাপে ৩টি ও এফএ কাপে একটি গোল করেছেন। ইতোমধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল এবং প্রিমিয়ার লিগের ফুটবলার হিসেবে একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছেন ম্যানসিটির স্ট্রাইকার।
হাল্যান্ডের সামনে এখন ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের খেলোয়াড় হিসেবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের হাতছানি রয়েছে। বর্তমানে রেকর্ডটি রয়েছে ডিক্সি ডিনের দখলে। ১৯২৭-২৮ মৌসুমে ৬৩ গোল করেছিলেন এই এভারটন কিংবদন্তি। সব মিলিয়ে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের রেকর্ড ভাঙার কীর্তি কোথায় গিয়ে থামে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।