বর্ণবাদ ইস্যুৃতে মাঝপথে পরিত্যক্ত নিউজিল্যান্ড-কাতার ম্যাচ

ফুটবলে বর্ণবাদের কালো থাবা নতুন কোনো বিষয় না। সারাবছর ধরে ক্লাব আর জাতীয় ফুটবলে ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড়রা প্রায়ই দর্শক বা প্রতিপক্ষের কাছে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হন। এবার বর্ণবাদের কারণে খেলা চলাকালে গোটা একটি ম্যাচই পরিত্যক্ত হয়ে গেছে।

অস্ট্রিয়ায় সোমবার (১৯ জুন) আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড ও কাতার। তবে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগের কারণে দুই দলের মধ্যকার ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। ম্যাচটিতে তখন নিউজিল্যান্ড ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল।

নিউজিল্যান্ডের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় দ্বারা তাদের এক খেলোয়াড় বর্ণবাদের শিকার হয়েছে। খেলার মধ্যবিরতির ঠিক আগে ঘটনাটি ঘটেছে। এ কারণে নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামতে অস্বীকৃতি জানায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিউজিল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন বলেছে, “কাতারের একজন খেলোয়াড় দ্বারা আমাদের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মাইকেল বক্সাল বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে নিউজিল্যান্ড মাঠে ফিরতে অস্বীকৃতি জানায়।”

নিউজিল্যান্ড ফুটবলের চিফ এক্সিকিউটিভ অ্যান্ড্রু প্রাগনেল জানান, তাদের পুরো ফেডারেশন খেলোয়াড়দের এ সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে প্রাগনেল বলেন, “আমরা কখনোই ম্যাচ পরিত্যক্তের পক্ষে না। কিন্তু কিছু কিছু বিষয় কখনও ফুটবলের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দেয়। আর এ ধরনের ঘটনায় শক্ত অবস্থান নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবলে বর্ণবাদের কোনো জায়গা নেই।”

কাতারের কোচ কার্লোস কুইরোজ জানান, মধ্যবিরতির সময় নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক তাকে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে না নামার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। কাতারের স্পোর্টস চ্যানেল আলকাসকে কুইরোজ বলেন, “বিষয়টি মূলত এমন যে, দুজন খেলোয়াড় মাঠে একে অপরের সঙ্গে বাক্য বিনিময় করছে। আমরা এমনটাই দেখেছি। নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়রা তাদের সতীর্থকে সমর্থন করেছে। আমাদের খেলোয়াড়রা সবাই স্বাভাবিকভাবেই তাদের সতীর্থকে সমর্থন করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “নিউজিল্যান্ড না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখানে আমাদের কিছু করার নেই। রেফারি কোনো ধরনের কথাবার্তা শোনেনি, ডাগআউটে বেঞ্চের খেলোয়াড়-কোচরা কেউই কিছুই শুনেনি। শুধুমাত্র দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হতে দেখা গেছে।”

কার্লোজ কুইরোজের আশা, আন্তর্জাতিক ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবে। তিনি বলেন, “দেখা যাক এ বিষয়ে ফুটবল কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়। আমি মনে করি, ফিফা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।”

এদিকে, একইদিনে অস্ট্রিয়ায় অনুষ্ঠিত আরও একটি ম্যাচও একই কারণে পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। আয়ারল্যান্ডের অনুর্ধ্ব-২১ ও কুয়েতের অনুর্ধ্ব-২২ দলের মধ্যকার ম্যাচটিতে আইরিশ এক বদলি খেলোয়াড় বর্ণবাদের শিকার হওয়ায় ম্যাচটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। ম্যাচটি ৭০ মিনিট পর্যন্ত মাঠে গড়িয়েছিল।