ফুটবলের রাজা ব্রাজিলের কিংবদন্তি তারকা ফুটবলার পেলে বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) সাও পাওলোর আলবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনটি বিশ্বকাপ জেতা বিশ্বের একমাত্র এই ফুটবলার মাঠে গড়েছেন একর পর এক রেকর্ড। রেকর্ড গড়ার ধারাবাহিকতা মৃত্যু ঢেকে দিতে পারেনি। মৃত্যুর পরও ইতিহাস গড়ে চলেছেন তিনি। ইন্টারনেটে কোটি কোটি আর্টিকেল থাকা সত্ত্বেও পেলের লেখা আত্মজীবনী বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটি এক প্রতিবেদনে জানায়, পেলের জীবন সত্যিকার অর্থেই বৈচিত্র্যময়। পেলের ছোটবেলা কেটেছে চরম দারিদ্র্যতার মধ্য দিয়ে। তবুও ফুটবলের মাধ্যমেই তিনি করেছেন বিশ্বজয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিশ্বমঞ্চে নিজের জাত চিনিয়েছেন। পেলে একদিকে পায়ের জাদুতে ফুটবল বিশ্বকে বিমোহিত করেছেন, অন্যদিকে নিজের সংগ্রামী ও কর্মময় জীবনের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করেছেন কোটি কোটি ফুটবল ভক্তকে।
সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে দেশকে তিনটি বিশ্বকাপ ও একটি কোপা জিতিয়েছেন। অবসরের পরেও বৈশ্বিক ফুটবলের জন্য এবং নিজের দেশের জন্য কাজ করে গেছেন এ কিংবদন্তি।
পেলে নিজের জীবনের স্মরণীয় সেই মুহূর্তগুলোই লিখে গেছেন তার আত্মজীবনী “হোয়াই সকার ম্যাটারস” নামের আত্মজীবনীতে। এছাড়া বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ফুটবলের ধীরে ধীরে যে বিকাশ সেটিও বইয়ে তুলে ধরেছেন তিনি। বইটি লিখতে পেলেকে সহযোগিতা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লেখক ব্রাইন উইন্টার।
২০১৪ সালের ১ এপ্রিল প্রকাশিত এ বইটি ফুটবল ইতিহাসের এক প্রামাণ্য দলিল। বইটি এমাজন, ইবেসহ জনপ্রিয় প্রায় সব অনালাইন ও অফলাইন বুক ষ্টোরগুলোতে বিক্রি করা হয়।
অ্যামাজনসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, পেলের মৃত্যুর পরে এ বইটির বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া গুডরিডস, অডিয়েবল, স্টোরিটেল নামের বিখ্যাত সব প্ল্যাটফর্মগুলোতে বইটির খুব ভালো রেটিং রয়েছে।
ফুটবলের অসংখ্য রেকর্ডে জড়িয়ে আছে পেলের নাম। ক্যারিয়ারে মোট ১৩৬৩টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ১২৮১ গোল আছে তার।
তবে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে নয়, বরং পেলেকে সঠিকভাবে জানতে, তার জীবন দর্শনকে বুঝতে পড়তে হবে তার আত্মজীবনী। আর তাই হয়তো বর্তমানে চলছে ব্রাজিলের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ জেতা এ কিংবদন্তির আত্মজীবনী কেনার হিড়িক।