মাত্র ১৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক তার, ১৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপে আবির্ভাব এবং জাদুর ছোঁয়ায় বিশ্ব ফুটবলকে বিস্ময়ে ভাসান। তিনি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে। তার নায়কোচিত পারফরম্যান্সেই ১৯৫৮ সালে সুইডেনের আসরে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ব্রাজিল। তার তিন বছর পর ব্রাজিল সরকার পেলেকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ঘোষণা করে। ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালেও দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতেন তিনি।
ব্রাজিলের সাও পাওলোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় ৮২ বছর বয়সে এই মহাতারকার জীবনাবসান হয়।
পেলেকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে সোমবার মানুষের ঢল নেমেছে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসের। ক্লাবটির স্টেডিয়ামে ২৪ ঘণ্টা রাখা হয় পেলের কফিনবন্দী নিথর দেহ। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সেখানে উপস্থিত হয়ে বলেছেন, পেলের প্রতি সম্মান জানাতে বিশ্বের প্রতিটি দেশে তার নামে স্টেডিয়ামের নামকরণের অনুরোধ করা হবে।
স্থানীয় সংবাদকর্মীদের ফিফা সভাপতি বলেছেন, “আমরা বিশ্বের প্রতিটি দেশকে অনুরোধ করব তাদের একটি স্টেডিয়াম যেন পেলের নামে নামকরণ করা হয়।” এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে দা গার্ডিয়ান।
ইনফান্তিনো বলেন, “শিশুরা যেন পেলের গুরুত্ব বুঝতে পারে”, সেটি ভেবে এমন প্রস্তাব দেওয়া হবে। সান্তোসের মাঠ ভিলা বেলমিরোয় সংবাদকর্মীদের এ কথা বলেন ফিফা সভাপতি।
পেলেকে শেষশ্রদ্ধা জানানোয় ফিফা সভাপতি ছাড়া দক্ষিণ আমেরিকা ও ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত আছেন। ২৪ ঘণ্টাব্যাপী এই শেষশ্রদ্ধা জানানোয় সান্তোসের স্টেডিয়ামের বাইরে মানুষ ভিড় জমিয়েছে। ইনফান্তিনো সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “আমরা এখানে খুব দুঃখ নিয়ে এসেছি। পেলে চিরন্তন। তিনি ফুটবলের বৈশ্বিক আইকন।”
পেলেকে সোমবার সকালে নেওয়া হয় সান্তোসের মাঠে। সকাল থেকেই সান্তোসের সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন পেলেকে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সেখান রাখা হয় তার কফিন।
পেলেকে তার পৈতৃক ভিটাতেও নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে থাকেন তার শতবর্ষী মা ডোনা সেলেস্তে আরান্তেস। তিনি খুব অসুস্থ। স্মৃতিভ্রষ্ট হয়েছেন আরও আগেই।
পেলেকে সমাহিত করা হবে নেকরোপল একুমেনিকাতে। এখানেই সমাহিত হতে চেয়েছিলেন কিংবদন্তি। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পেলের শেষ ইচ্ছা ছিল নেকরোপল একুমেনিকার নবম তলায় তিনি শায়িত হবেন। যেখান থেকে ভিলা বেলমিরোর মাঠটা পরিষ্কার দেখা যায়।