জাতিসংঘের পেটেন্ট ও উদ্ভাবন বিষয়ক সংস্থা ডাব্লিউআইপিও জানিয়েছে, এআই-এর ব্যাপক প্রসারের ফলে ২০২৫ সালে সফ্টওয়্যার, ডেটা এবং গবেষণার মতো অদৃশ্য সম্পদে বিনিয়োগ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে৷ সংস্থাটি আরো জানায়, গবেষণা ও উন্নয়ন, সফটওয়্যার ও ডেটা, ব্র্যান্ড, ডিজাইন এবং সাংগঠনিক দক্ষতার মতো বিষয়গুলোর মাধ্যমে গড়ে ওঠা এ বিনিয়োগ এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির বড় এবং ক্রমবর্ধমান এক অংশ৷
জেনেভাভিত্তিক সংস্থা ডাব্লিউআইপিও প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৭ সালে৷ সেই থেকে উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের তাদের মেধা-সম্পদ সুরক্ষায় সহায়তা করে আসা সংস্থাটি জানায়, বৈশ্বিক জিডিপির ৫৭ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী ২৯টি অর্থনীতির ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে অদৃশ্য সম্পদে বিনিয়োগ ১০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে৷ ডাব্লিউআইপিও বলছে, এটি ‘সর্বকালের সর্বোচ্চ'৷
গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশ, ব্রিটেন জাপান, ভারত এবং আরো কিছু দেশ থাকলেও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি৷
আজ বুধবার ডাব্লিউআইপিও এবং রোমভিত্তিক লুইস বিজনেস স্কুলের যৌথভাবে প্রকাশ করা ‘ওয়ার্ল্ড ইনট্যানজিবল ইনভেস্টমেন্ট হাইলাইটস ২০২৬' শীর্ষক এক প্রতিবেদনে সফ্টওয়্যার, ডেটা এবং গবেষণার মতো অদৃশ্য সম্পদে রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে৷
গবেষণা-প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৮ সাল থেকে অদৃশ্য সম্পদে বিনিয়োগ প্রকৃত অর্থে বছরে ৩.৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দৃশ্যমান সম্পদে বিনিয়োগের তুলনায় অনেক বেশি৷ এ সময়ে দৃশ্যমান সম্পদে বিনিয়োগের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ০.৯৮ শতাংশ৷
ডাব্লিউআইপিওর তথ্য অনুযায়ী, অদৃশ্য সম্পদে বিনিয়োগের পরিমাণে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে এগিয়ে৷ ২০২৫ সালে তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়৷ দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে যথাক্রমে জাপান ও জার্মানি৷ তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ জাপানের প্রায় ছয় গুণ৷
তবে সবচেয়ে বেশি অদৃশ্য সম্পদে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতির দেশ এখনো সুইডেন৷ ২০২৫ সালে তাদের জিডিপির ১৭.৪ শতাংশই ছিল এমন বিনিয়োগ৷ এক্ষেত্রে ১৫.৬ শতাংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ১৫.২ শতাংশ নিয়ে ফ্রান্স রয়েছে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে৷
এছাড়া ভারত, জাপান এবং ফিলিপাইন্সে এ সময়ে অদৃশ্য সম্পদে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে দ্রুত হয়েছে বলেও জানিয়েছে ডাব্লিউআইপি