ঘরে বসেই অন্ধকার জগতে ঢুকে পড়েছে শিশুরা

শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা ও অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নানা বিধিনিষেধ আরোপের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও বিষয়টি নিয়ে নীতিগত আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ।

সম্প্রতি নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে শিশুদের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণের একটি স্পষ্ট প্রবণতা তৈরি হয়েছে। নেটফ্লিক্সের প্রশংসিত সিরিজ ‘অ্যাডোলেসেন্স’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, অ্যালগরিদমের আসক্তি, বিষাক্ত অনলাইন সংস্কৃতি, একাকীত্ব ও সামাজিক স্বীকৃতির তীব্র আকাঙ্ক্ষা বর্তমান সময়ে প্রতিটি পরিবারের জন্য এক সম্ভাব্য আশঙ্কাজনক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

আসিফ সালেহ জানান, অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, রেডিট ও ইউটিউবের মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলোতে কঠোর আইনি বিধিনিষেধ জারি করেছে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াও বয়সসীমা নির্ধারণের পথে হাঁটছে। নরওয়ে, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স ও ডেনমার্কের মতো দেশগুলোতেও শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা নিয়ে ব্যাপক আইনি ও রাজনৈতিক নীতি পরিবর্তন হচ্ছে।

বাংলাদেশে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী ও স্মার্টফোনের সহজলভ্যতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যতম বড় একটি বাজার। এখানে ফেসবুকে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ এবং টিকটকে ৪ কোটি থেকে সাড়ে ৪ কোটিরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে। তাই আমাদের শিশুদের অনলাইন ঝুঁকির বিষয়টি আর উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।”

সরকার ও অভিভাবকদের সচেতনতার তাগিদ দিয়ে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, সন্তানের হাতে স্মার্টফোন দেওয়া আর তার ভেতরের অনলাইন জগৎ সম্পর্কে সচেতন থাকা এক বিষয় নয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যখন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, তখন বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর এই দেশেও শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত আলোচনা ও নীতি নির্ধারণ করা জরুরি।