বন্ধ হচ্ছে থ্রি-জি হ্যান্ডসেটের আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন

দেশে ডিজিটাল রুপান্তর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্মার্টফোনের ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করতে থ্রি-জি মোবাইল হ্যান্ডসেটের আমাদানি এবং স্থানীয় উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। 

টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির সর্বশেষ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

বিটিআরসি বিশ্বাস মনে করে, দেশে ফোর-জি মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পথে থ্রি-জি মোবাইল একটি বড় বাধা।

বিটিআরসি পরিসংখ্যান অনুসারে, স্থানীয় নির্মাতারা এ বছর মাত্র কয়েক হাজার হ্যান্ডসেট তৈরি করায় দেশে থ্রি-জি হ্যান্ডসেটের উত্পাদন প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। 

তবে কিছু আমদানিকারক "মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারক এবং বিক্রেতা তালিকাভুক্তি" এবং "রেডিও সরঞ্জাম আমদানিকারক এবং বিক্রেতা তালিকাভুক্তি"র অধীনে এখনও শুধু থ্রি-জি হ্যান্ডসেট আমদানি করছে।

এ বছরের ৩১ ডিসেম্বরের পর শুধুমাত্র থ্রিজি হ্যান্ডসেট আমদানির জন্য ওইসব আমদানিকারকদের এনওসি (অনাপত্তি সনদ) না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিটিআরসি।

এদিকে, দেশ যখন ফাইভ-জি প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন স্থানীয় কোম্পানিগুলোর স্মার্টফোনের উৎপাদন কমছে, তবে ফিচার ফোনের পরিমাণ বাড়ছে। 

তথ্য অনুযায়ী, দেশে উৎপাদিত মোট হ্যান্ডসেটের ৬৯.৬০% ফিচার ফোন, আর ৩০.৪০% স্মার্টফোন।

২০২২ সালের জুন মাসে দেশে স্মার্টফোনের (ফোর-জি এবং ফাইভ-জি উৎপাদন ছিল ৮ লাখ আশি হাজার আর টু জি বা  ফিচার ফোনের উৎপাদন ছিল ২১ লাখ ৫০ হাজার।

বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে, দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেটের বাজার ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটের বার্ষিক চাহিদা সাড়ে তিন কোটির বেশি যার মধ্যে এক কোটি ১০ লাখ স্মার্টফোন।

২০২১ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত স্থানীয় নির্মাতারা দেশের মোবাইল ফোনের প্রয়োজনীয়তার প্রায় ৮০% সরবরাহ করেছে।

খাতটি ১৫,০০০ এরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

বর্তমানে ১৫টি কোম্পানির মোবাইল হ্যান্ডসেট তৈরির লাইসেন্স রয়েছে।

স্মার্টফোনের স্থানীয় উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার "মেড ইন বাংলাদেশ" কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।