নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশীদুল ইসলামকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেরেছন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর রশিদ।
সোমবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. এহতেরামুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একজন নারী শিক্ষার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ১১৩তম সভার সিদ্ধান্তক্রমে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী পরিসংখ্যান বিভাগের প্রফেসর ড. মো. রশীদুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এর আগে, পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক ড. মো. রশীদুল ইসলামের সঙ্গে এক শিক্ষার্থীকে নম্বর বেশি পাইয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন অশ্লীল কথপোকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গত এপ্রিল মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষ্ণচূড়া সড়কে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করে শিক্ষার্থীরা প্রতীকী কুশপুত্তলিকা বানিয়ে তাতে জুতাপেটা করে প্রতিবাদ জানান। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান সংবাদমাধ্যম কর্মীদের বলেছিলেন “আমরা একটি যৌন হয়রানির অভিযোগ পেয়েছি। ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন । তিন কার্যদিবসে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকত আলী জানিয়েছিলেন, “যৌন নিপীড়নের একটি সেল গঠন করা হয়েছে। সেখানে যে-কেউ অভিযোগ দিতে পারবেন। আর পরিসংখ্যান বিভাগের যে অভিযোগ এসেছে সেটির জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করেন। ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষকের কথপোকথন যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়, সেটি ওই শিক্ষকের তা-ও প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার কথা থাকলেও নানা কারণে প্রতিবেদন পরে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তদন্ত প্রতিবেদন উপাচার্যের কাছে হস্তান্তর করার পর পুরো ঘটনাটিকে ধামা চাপা দেবার জন্য তদবির করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ১১৩তম সভায় তদন্ত প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হলে সেখানে প্রফেসর ড. মো. রশীদুল ইসলামকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রবিবার সিদ্ধান্ত হলেও সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ বিভাগ থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।
এদিকে, অভিযুক্ত ড. মো. রশীদুল ইসলামের সঙ্গে সোমবার বেশ কয়েকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর রশিদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষক রশীদুল ইসলামকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।



