ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের ছবি টাঙানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি এই ঘটনায় প্রক্টরের প্রত্যক্ষ অনুমোদন ও পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ এনে তার জবাবদিহি দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রতিবাদ জানান।
এই ঘটনাকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার অবমাননা উল্লেখ করে নাছির উদ্দীন নাছির লিখেছেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র ভূমিতে আজ ইসলামি ছাত্রশিবির রাজাকার নিজামী, মুজাহিদ, গোলাম আযমসহ মুক্তিযুদ্ধকালীন গণহত্যার উস্কানিদাতাদের ছবি টাঙিয়ে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাকে অপমান করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং বিশেষ করে প্রক্টরের সম্মতি ছাড়া এ ধরনের আয়োজন সম্ভব নয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো কর্মসূচি আয়োজনের জন্য প্রক্টরের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। পুরো আয়োজনের বিষয়বস্তু যাচাই করে তবেই অনুমতি দেওয়া হয়। আজকের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে প্রক্টরের অনুমতি, সম্মতি ও নীরব সহযোগিতা না থাকলে এই আয়োজন সম্ভব হতো না। সুতরাং এই ঘটনার দায় প্রক্টরকে নিতে হবে।”
নাছির আরও বলেন, “প্রক্টর ও প্রশাসনের প্রশ্রয়ে ছাত্রশিবির আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অপমান করেছে, দেশের সকল নাগরিকের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।”
তিনি অতীতের কিছু ঘটনা টেনে বলেন, “তোফাজ্জল হত্যাকাণ্ড, সাম্য হত্যাকাণ্ড, শেখ হাসিনার গ্রাফিতি মুছে ফেলা- এসব ঘটনায়ও প্রশাসন, বিশেষ করে প্রক্টরের অদক্ষতা, নিষ্ক্রিয়তা এবং মব ও উগ্র সংগঠনগুলোর প্রতি পৃষ্ঠপোষকতা প্রমাণিত হয়েছে।”
ইসলামি ছাত্রশিবিরকে একাত্তরের ছাত্রসংঘ ও আল-বদর বাহিনীর উত্তরসূরি আখ্যা দিয়ে নাছির বলেন, “এই সংগঠন অতীতে এক আলবদর কমান্ডারকে ডাকসুর ভিপি প্রার্থী করেছিল। তাদের দলীয় প্রকাশনাতেও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য ছাপা হয়েছে।”
তিনি অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান এবং শিবিরের এই কর্মকাণ্ডকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।



